সুনীল ছেত্রীকে নিয়ে কোচ-সতীর্থরা উচ্ছ্বসিত

66

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : তিনি যে লিওনেল মেসিকে ছাপিয়ে গিয়ে ২ নম্বরে, সেটা জানতেনই না ম্যাচের অনেক পরেও। বরং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষপর্যন্ত যে জয় এসেছে, তাতেই বেশি খুশি। তবে তিনি নিজে যতই স্বাভাবিক থাকুন না কেন, ভারতীয় শিবির আপাতত সুনীল ছেত্রীময়। তবে এরই মধ্যে অত্যধিক সুনীল নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাইচুং ভুটিয়া।

২০০১ সালের পর এই প্রথম ভারতীয় দল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে দেশের বাইরে কোনও ম্যাচ জিতল। রেকর্ড বই একথাও বলছে, দেশের হয়ে ৭৪ গোল করে এই মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ঠিক পিছনে সুনীল ছেত্রী। গোল প্রসঙ্গে সুনীল বলেন, আমি কত গোল করলাম, সেসব গুনে দেখি না। ১০ বছর পরে যখন বসে নিজেদের মধ্যে আড্ডা দেব, তখন ভাবব। ইগর স্টিমাক অবশ্য প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তাঁর অধিনায়ককে। বলেছেন, আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে সুনীল কবে অবসর নেবে? কিন্তু ওরা জানে না যে, মাঠে সুনীল কী অসম্ভব পরিশ্রম করে। বলতে পারেন, এখনও ওই সেরা। ওকে পরিশ্রম করতে দেখে মনে হয় যেন বয়সটা ২৫-এ আটকে।

- Advertisement -

সুনীল ছেত্রীকে নিয়ে কোচ-সতীর্থরা উচ্ছ্বসিত| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaকোচের মতোই উচ্ছ্বসিত সতীর্থরাও। অধিনায়ক সম্পর্কে নিজের বক্তব্য খুবই সোজাসাপটা সন্দেশ ঝিংগানের। বলেছেন, যতদিন ভারতে ফুটবল থাকবে সুনীল ভাইয়ের নাম মনে রাখতে হবে। মাঠে নেমে ও কী করতে পারে, সেটা সকলেই দেখতে পাচ্ছে। আর আমি বলতে পারি, মাঠের বাইরেও ওকে অনুসরণ করা উচিত। বেঙ্গালুরু এফসি-তে একসঙ্গে খেলেন বলেই আরও বেশি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান গুরপ্রীত সিং সান্ধু। খুব গর্বের সঙ্গে বলেছেন, আমি তো গর্ব করে বলতে পারি রোনাল্ডো ও মেসির মাঝে একজন প্লেয়ার রয়েছে। যে আমার সতীর্থ সুনীল। ভারত অধিনায়ক নিজে অবশ্য এত বাড়াবাড়ি পছন্দ করছেন না। তিনি বরং বাংলাদেশ ম্যাচে নষ্ট হওয়া সুযোগগুলো নিয়ে বেশি চিন্তিত। তাঁর মন্তব্য, আমরা প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছি। ম্যাচটা কঠিন ছিল ঠিকই কিন্তু তবু আমরা এর থেকে ভালো করতে পারতাম। আমি নিজেও সুযোগ নষ্ট করেছি। এটা নিয়ে আমাদের পরে আলোচনা করতে হবে। তবে আপাতত, জয়টা দরকার ছিল। সেটা পেয়ে খুশি। আপাতত এই জয় ভুলে আফগানিস্তান ম্যাচের দিকেই ফোকাস করছে সুনীল সহ গোটা দল।

এদিকে, সুনীলের এই সাফল্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাইচুং কিন্তু ভারতের অত্যধিক সুনীল নির্ভরতার খারাপ দিকটা তুলে ধরেছেন। তাঁর সঙ্গে রবার্ট লেওয়ানডস্কির তুলনা টেনে বলেছেন, সুনীল আর লেওয়ানডস্কির মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। একজন অসাধারণ ফুটবলার লেওয়ানডস্কি। কিন্তু ইউরো জিততে গেলে ওর একটা সত্যিকারের ভালো দল লাগবে। না হলে পরপর ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট জেতা যাবে না। একজন ব্যক্তিগত প্রতিভা দিয়ে একটা দুটো ম্যাচ বের করে দিতে পারে। কিন্তু এতে দলের উন্নতি হয় না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটা দেখলেই ব্যাপারটা বোঝা যাবে। ওটা সুনীল একা জিতিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই গোলদুটো ছাড়া আর বলার মতো কিছু আছে কি?