অধ্যাপকের সঙ্গে দুমাস আগে কথা বলেন অভিযোগকারী ছাত্রী

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : অধ্যাপকের অডিও কাণ্ডে একের পর এক তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। ঘুষ চাওয়ার ঘটনায় বুধবার প্রথম উত্তরবঙ্গ সংবাদের কাছে মুখ খুললেন অভিযোগকারী ছাত্রী নিশা পাসোয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কাছ থেকে এমন কিছু তথ্য জানা গিয়েছে যা তদন্তের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। নিশার দাদা বিকি পাসোয়ান বলেন, তিনদিন নিশার সঙ্গে অমিতাভ কাঞ্জিলালের কথা হয়েছিল। ৯ জুলাই প্রথমবার কথা হয়। সেই দিনের কথোপকথনের রেকর্ডই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জুলাই মাসের কথোপকথনের রেকর্ড কেন দুমাস পর প্রকাশ্যে আনা হল সেই প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রীর বাবা। সেই বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

শিলিগুড়ি কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিশা স্নাতকস্তরের পুরোনো ব্যবস্থাপনার (১+১+১) পাশ কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী। ২০১৭ সালে তিনি পার্ট-১ এর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালের চড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পাশ করতে পারেননি। ফলে তিনি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসাবেই চলতি বছর পরীক্ষায় বসার আবেদন করেছিলেন। শুরুতে শিক্ষা দপ্তরের তরফে বলা হয়েছিল চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরীক্ষা না হলে পরীক্ষার্থীদের আগের বছরের প্রাপ্ত নম্বর এবং ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হবে। নিশা জানিয়েছেন, যেহেতু তিনি নিয়মিত পরীক্ষার্থী নন, তাই তাঁর ক্ষেত্রে কী হবে সেটা জানার জন্যই কলেজের ওয়েবসাইট থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অমিতাভ কাঞ্জিলালকে ফোন করেছিলেন। অভিযোগ, তারপরই পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা চান ওই অধ্যাপক।

- Advertisement -

নিশা আরও বলেন, কথোপকথনের অডিওগুলি আমি পূর্বপরিচিত শিলিগুড়ি কলেজের এক ছাত্রনেতাকে পাঠিয়েছিলাম। তারপর ওই বিষয় নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি। নিশার বাবা রাজেন্দ্র পাসোয়ান বলেন, অধ্যাপক অন্যায় করেছেন, সেটা ঠিক। তবে হঠাৎ করে কেন দুমাস আগের অডিও ভাইরাল হল, তা বুঝতে পারছি না। আমার মেয়ে কোনও অভিযোগ জানানোর জন্য অডিওগুলি ওর পরিচিত ওই ছাত্রনেতাকে পাঠায়নি। ভাইরাল করার আগে একবারের জন্যও আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি ওই ছাত্রনেতা। আমরা তো সব ভুলেই গিয়েছিলাম। অভিযুক্ত অধ্যাপকের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে ওই ছাত্রনেতার উদ্দেশ্যও পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত।

অডিও কাণ্ডের তদন্তে নেমে মঙ্গলবার অভিযোগকারী ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের দুর্নীতিদমন শাখার তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর বাড়িতে যায় তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি দল। তার নেতৃত্বে ছিলেন দুর্নীতিদমন শাখার এসিপি পূর্ণিমা শেরপা। অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করেন তাঁরা। ছাত্রীর শিক্ষা সংক্রান্ত নানা নথিও সংগ্রহ করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনের সত্যতা যাচাইয়ে জন্য যে ডিভাইসে কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছে সেই ডিভাইস প্রযোজন। সেই কারণেই ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি হেপাজতে নেওয়া হয়েছে বলেই পুলিশ জানিয়েছে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। বুধবারও তদন্তকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিতাভ কাঞ্জিলালের চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাছে যেসব নথি নেই, সেগুলি চেয়ে বুধবারই শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দিলীপকুমার সরকার বলেন, তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে তরফে পুলিশকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল ওঠায় আতঙ্কিত নিশা। তিনি বলেন, ঘটনা সত্য। এটা নিয়ে বাইরে যেভাবে শোরগোল চলছে, তাতে ভয় হচ্ছে। পুলিশের কর্তারা এখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।