পুখুরিয়া মোড়ের যাত্রী প্রতীক্ষালয় যেন পোড়োবাড়ি

454

শেখ পান্না, রতুয়া: দেওয়াল থেকে খসে পড়ছে বালি, সিমেন্ট। ছাদ চইুঁয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। বসার আসন ভেঙে পড়েছে, খসে পড়েছে একদিকের ছাদ। বাসা বেঁধেছে ইঁদুর, গজিয়েছে ব্যাঙের ছাতা। না, এটা কোনও পোড়োবাড়ি নয়। রতুয়া-২ ব্লকের পুখুরিয়া মোড় যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের বর্তমান অবস্থা। সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে এই প্রতীক্ষালয়টি। যাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছেন। তাঁদের রোদ, বৃষ্টি, ঝড় সহ্য করতে হচ্ছে। প্রশাসনকে বহুবার জানিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই অবিলম্বে প্রতীক্ষালয়টি সংস্কার ও মহিলা শৌচাগারের দাবিতে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

প্রায় তিন দশক আগে রতুয়া-২ ব্লকের পুখুরিয়া মোড় বাসস্ট্যান্ডে জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দে তৈরি হয়েছিল আড়াইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতেরর অন্তর্গত পুখুরিয়া মোড় য়াত্রী প্রতীক্ষালয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেটি একপ্রকার বেহাল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিবেকানন্দ ঝা, শম্ভুচরণ কুমার, মোস্তাক আলম, মইনুল হকদের অভিযোগ, প্রায় তিন দশক আগে যাত্রীদের সুবিধার জন্য এই প্রতীক্ষালয়টি তৈরি হয়েছিল। কয়েক বছর বেশ ভালোই ছিল, তারপর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে সেটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বহুবার গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে জানানো হলেও সংস্কারের জন্য কেউ উদ্যোগ নেয়নি।

- Advertisement -

পুখুরিয়া থানা এলাকার আড়াইডাঙ্গা, মিরজাতপুর, চাকলা, পাটিকলা সহ প্রায় ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী বাস ধরতে প্রতিনিয়ত পুখুরিয়া মোড় বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এই বাসস্ট্যান্ড হয়ে মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করা যায়। একদিকে মাদিয়া, শোভানগর, অমৃতি হয়ে কালিয়াচক, অন্যদিকে পিরগঞ্জ, কোতুয়ালি, মালদা টাউনের পাশাপাশি রতুয়া, সামসী, চাঁচল, মানিকচকও যাওয়া যায়। এখানে বাস ধরতে বহু মানুষ আসেন। এই রাস্তা হয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে। বিগত কিছুদিন আগে প্রতীক্ষালয়ে ছাদের প্লাস্টার ভেঙে পড়েছে। এরফলে বাস ধরতে আসা যাত্রীদের প্রতীক্ষালয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি অসিুবধা হয় বর্ষার সময়। বাস ধরতে গেলে পাশের দোকান ঘরগুলিতে আশ্রয় নিতে হয়। এছাড়াও এখানে কোনও মহিলা শৌচাগার নেই। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মখুীন হতে হয় মহিলা যাত্রীদের। মাঝেমধ্যে তাঁরা পার্শ্ববর্তী একটি ক্লাবের শৌচালয় ব্যবহার করেন।

প্রতীক্ষালয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী মনসুর আলি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এই যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতীক্ষালয়ের ছাদ ভেঙে পড়ে রয়েছে। ফলে ভেতরে বসা যায় না। রাস্তার ধারে অথবা আশেপাশের কোনও দোকানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বর্ষার দিনে ভোগান্তির শেষ থাকে না। প্রতীক্ষালয় থাকা না থাকা সমান। কোনও মহিলা শৌচাগার নেই। প্রতীক্ষালয়টি সংস্কার এবং একটি মহিলা শৌচাগার এখানে খুবই প্রয়োজন। এবিষয়ে মালদা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শামসুল হক জানান, চলতি বছর ১৪ তম অর্থ কমিশনের বরাদ্দে প্রতীক্ষালয়টি সংস্কার করা হবে। এরপর যাত্রীদের জন্য সেখানে কমিউনিটি টয়লেটও তৈরি করা হবে।