বামেদের ডাকা ১২ ঘণ্টা বনধকে সমর্থন কংগ্রেসের

116

উত্তরবঙ্গ নিউজ ডেস্ক: বাম-কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব শাখার নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার হল কলকাতার রাজপথ। লাঠি চালাল পুলিশ। ছুড়ল কাঁদানে গ্যাস। চালানো হল জল কামান। আহত হলেন বহু বাম, কংগ্রেস সমর্থক। তার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ধর্মতলা চত্বর। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আগামীকাল, শুক্রবার বাংলা বনধের ডাক দিল বামেরা। সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস।

এদিন বিমান বসু বলেন, ‘আজকে বামপন্থী ছাত্রযুব সংগঠনগুলি এবং জাতীয় কংগ্রেসের ছাত্রযুব সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষার উন্নয়ন ও কাজের দাবিতে যে নবান্ন অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে খানিকটা জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো অবস্থা তৈরি করে তৃণমূল সরকারের পুলিশ বাহিনী যে নির্মম অত্যাচার নামিয়ে এনেছে তাতে দেড়শোর বেশি ছাত্রছাত্রী ও যুবকযুবতী আহত হয়েছেন। অনেকের আঘাত গুরুতর। ইতিপূর্বে মাদ্রাসা শিক্ষক, পার্শ্বশিক্ষক, মহিলাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপরেও রাজ্যের পুলিশ অত্যাচার করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য বামফ্রন্ট ও বাম সহযোগী দলসমূহের পক্ষ থেকে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টার রাজ্যব্যাপী হরতাল ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাম ও বাম সহযোগী দলসমূহ এবং জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে এব্যপারে আলোচনা হয়েছে। আগামীকালের হরতাল ধর্মঘটের পক্ষে সর্বত্র প্রচার করার আবেদন করা হচ্ছে।‘ বৃহস্পতিবার কলকাতায় এই কথা জানান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের পুলিশ যেভাবে আমাদের কমরেড দের উপর অত্যাচার চালিয়েছে তার জন্যই এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।‘

- Advertisement -

এদিকে, আগামীকাল ১২ ঘণ্টার বামেদের ডাকা ধর্মঘটের রেশ পড়তে চলেছে শহর শিলিগুড়িতেও। এদিন সিপিআইএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, ‘আজকের এই ঘটনা একেবারেই বর্বরোচিত আক্রমণ। পুলিশ তো এখন দলদাসে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের ভয়ে পুলিশ টেবিলের তলায় লুকিয়ে থাকে, তাঁরা হঠাৎ কেন এত অতিসক্রিয় হয়ে উঠল?’ বলেন, ‘আজ ছাত্র যুবরা তাদের নিজেদের ন্যায্য দাবি নিয়ে নবান্নের দিকে যাচ্ছিল, সেইসব ছাত্রদের ওপর এমন আক্রমণ নজিরবিহীন।’

এপ্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি তথা মাটিগাড়া-নক্সালবাড়ির বিধায়ক শংকর মালাকার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কারণ সব রাজ্যে শাসকের পাশাপাশি বিরোধীরাও থাকবে এটাই দস্তুর। সেখানে ছাত্ররা যুবরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হলে তা অতি দুর্ভাগ্যজনক। তাই পুলিশি এই বর্বরতার প্রতিবাদে বামেদের ডাকা বনধকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।’

প্রসঙ্গত, এদিন নবান্ন ঘেরাও অভিযানে রণক্ষেত্র চেহারা নয় ধর্মতলা চত্বর। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা। এরপর বামেদের নবান্ন ঘেরাও অভিযানে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে কলকাতা পুলিশ। জলকামান থেকে টিয়ার গ্যাস সবই ব্যবহার করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের লাঠির গায়ে বেশ কয়েকজন বাম কর্মী-সমর্থকের মাথা ফেটেছে বলে অভিযোগ করে বামেরা। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিল বামেরা।