শিরীষ গাছ মৃত্যুর নেপথ্যে আধুনিক কালিদাসদের ষড়যন্ত্র! আশঙ্কায় মেমারিবাসী

148

বর্ধমান: প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেনি। উইপোকার উপদ্রবও দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও পূর্ব বর্ধমানের মেমারির হাট পুকুর থেকে দেবীপুর পর্যন্ত জিটি রোড়ের দু’ধারে থাকা গোটা পঞ্চাশ প্রকাণ্ড শিরীষ গাছ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। যদিও একই এলাকায় থাকা বাকি অন্য সব গাছগুলি তরতাজাই রয়েছে। ঘটনায় বৃক্ষপ্রেমী, পরিবেশ কর্মী ও মেমারির বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। মেমারির হাটপুকুর থেকে দেবীপুর হয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ডার পর্যন্ত জিটি রোডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিলোমিটার। বহুকাল আগে থেকেই ওই সড়ক পথের দু’ধারে নানা ধরনের গাছ রয়েছে। ওইসব গাছগুলির মধ্যে কিছু শিরীষ গাছের বয়স ৫০ থেকে শুরু করে ৭০ ছাপিয়েছে। অভিযোগ, মেমারিতে রেল ওভারব্রিজ তৈরির ঘোষনার পরেই মেমারির চেকপোস্ট এলাকায় ১০-১৫টি পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়। সেক্ষেত্রে বাসিন্দাদের আশঙ্কা নিশ্চই ‘আধুনিক কালিদাসদের’ ষড়যন্ত্র রয়েছে শিরীষ গাছের মৃত্যুর নেপথ্যে। কেননা, জীবন্ত গাছ কাটার অনেক ঝক্কি রয়েছে।

মেমারির বৃক্ষ প্রেমীরা মনে করছেন, এসব ঝক্কি এড়িয়ে সহজে ফায়দা লোটার জন্য ‘আধুনিক কালিদাস’-রা রাতের অন্ধকারে শুধুমাত্র বেছে বেছে মূল্যবান শিরীষ গাছগুলির গোঁড়ায় বিষাক্ত কিছু প্রয়োগ করে দিয়ে থাকতে পারে। তার জেরেই ওই গাছগুলি শুকিয়ে মরে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই গাছগুলির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দাবি তুলে ধরেছেন তাঁরা। স্থানীয় দুর্গাপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিতাই ঘোষের মন্তব্যও খানিক একই প্রকার। তবে এসব যুক্তির সঙ্গে একমত হতে পারেননি মেমারি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এতগুলি গাছ একসঙ্গে মরে যাওয়াটা সত্যি উদ্বেগের বিষয়। তিনি পালটা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রয়োজনীয় জল ঘাটতি যদি শিরীষ গাছগুলির মৃত্যুর কারণ হয় তাহলে একই জায়গা থাকা অন্য বয়স্ক গাছগুলি বেঁচে আছে কী করে? সেকারণে এই ঘটনার পেছনে ‘আধুনিক কালিদাসদের’ কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ বলে মন্তব্য তাঁর।’

- Advertisement -

মেমারির বৃক্ষ প্রেমী সহ বিভিন্ন মহলের তরফে ওঠা এহেন অভিযোগ মানতে নারাজ মেমারির বনদপ্তরের কর্মী ভবেশ শর্দার। তাঁর বক্তব্য, জলস্তর নেমে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জল ঘাটতি এবং অত্যাধিক বয়স হয়ে যাওয়াই শিরীষ গাছগুলি মরে যাওয়ার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, এবিষয়ে জেলার বন আধিকারিক দেবাশীষ শর্মার সঙ্গে একাধিকবার ফোন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।