চার বছরেও গীতাঞ্জলি প্রকল্পের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হল না

265

পারডুবি: কোচবিহারে মাঝপথে আটকে গেল গীতাঞ্জলি প্রকল্পের কাজ। চার বছরেও ২৩টি বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ না করার অভিযোগ। কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘুটুরটারি সংলগ্ন কলোনির ঘটনা। কলোনীর উপভোক্তাদের অভিযোগ, বাড়ি গুলির মেঝে কাঁচা রয়েছে, দেওয়াল সম্পূর্ণ তৈরি করা হয়নি। এরফলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে উপভোক্তা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। বাড়ি তৈরির দায়িত্বে থাকা বিভাগও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সূত্রের খবর, ২০১৬ সাল নাগাদ ওই এলাকায় তৎকালীন বিডিও এমডি লামা সহ পঞ্চায়েত সমিতি ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধানকে নিয়ে কমিটি গঠন করে ঘুটুরটারি এলাকায় গীতাঞ্জলি প্রকল্পে ২৩টি বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়। এরমধ্যে কয়েকটি বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হলেও এখনও ১৮টি বাড়ির কাজ শেষ হয়নি। কোনও কোনও বাড়ির দেওয়ালই ওঠেনি। অথচ, ঠিকাদারের চাপে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে দিতে হয়েছে। এমনকি, উপভোক্তারা জানতে পেরেছেন, খাতা কলমে অনেকের বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

উপভোক্তাদের মধ্যে মালতী দাস, সন্ধ্যা বালা বর্মন, ভারতী মন্ডল,ষষ্ঠী সাহা প্রমুখদের বক্তব্য, ‘‘দেখে বোঝার উপায় নেই নতুন বাড়ি! কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।’ তাঁদের আরও অভিযোগ, এলাকায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলার কথা ছিল তাও হয়নি। এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। বর্ষায় বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে যায়। বর্ষার জল আটকাতে বাঁধ তৈরির কথা ছিল, সেটাও হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ বিরোধীরাও।

স্থানীয় সিপিআইএম নেতা সুচিত্র সরকারের অভিযোগ, উপভোক্তাদের ঘর ঠিকঠাক তৈরি করে দেওয়া হয়নি। মডেল ভিলেজের পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ, ঠিকাদাররা গায়ের জোরে উপভোক্তাদের থেকে ঘর তৈরির টাকা আদায় করেছে।

বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রতাপ সরকার বলেন, ওই বাড়ি গুলি প্রধানমন্ত্রী আবাসযোজনা প্রকল্পের। কিন্তু, বাড়ি গুলির কাজ অসম্পূর্ণ রয়েগেছে। প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করে ফেলা হয়েছে। দূর্নীতি ও কালোবাজারিতে ঢেকে গিয়েছে গ্রামাঞ্চল। অথচ, গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পাট্টা দিয়ে ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়েছিল। কিন্তু কিছুই করে দেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন বলেন, তৎকালীন বিডিও ও জেলাশাসক উদ্যোগ নিয়েছিলেন পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটা মডেল ভিলেজ তৈরি করার। কিন্তু, বিডিও বদলি হয়ে যাওয়ার পরে কোনও অর্থ আসেনি। যতটুকু কাজ হয়েছে, তার পুরোটাই গ্রামপঞ্চায়েতের টাকায়। বিরোধীদের অভিযোগ মিথ্যা বলেও মন্ত্রী দাবি করেন। তবে, গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকায় পানীয়,বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও, গীতাঞ্জলি প্রকল্পের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।