পথশ্রীতে শিলান্যাস হওয়া বিতর্কিত রাস্তার সংস্কার শুরু পলাশবাড়িতে

400

পলাশবাড়ি: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়ি এলাকায় প্রায় এক মাস আগে পথশ্রী প্রকল্পে একটি রাস্তার শিলান্যাস করা নিয়ে বিতর্ক হয়। বাংলার গ্রাম সড়ক যোজনায় তৈরি ওই রাস্তা সংস্কারের দায়িত্বে এখনও রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা। তা সত্ত্বেও পথশ্রী প্রকল্পে কেন ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে এই বিতর্কের জেরে পথশ্রী প্রকল্পে আর ওই রাস্তার কাজ হচ্ছে না। এখন ঠিকাদার সংস্থাই রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পথশ্রী প্রকল্পে এই রাস্তার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল, তা দিয়ে অন্য খারাপ রাস্তার কাজ হবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা জানিয়েছে, তাঁরা রুটিন অনুযায়ী রাস্তার সংস্কার শুরু করেছেন।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পুঁটিমারি মোড় থেকে দক্ষিণে কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙ্গার দিকে চলে গিয়েছে একটি পাকা রাস্তা। ২০১৮ সালে বাংলার গ্রাম সড়ক যোজনায় এই রাস্তাটি পাকা করা হয়। কাজের সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাস্তার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অথচ আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে থাকা এই রাস্তার ১.২ কিমি মেরামতের জন্য গত ৫ অক্টোবর পুঁটিমারি মোড়ে ঘটা করে শিলান্যাস করা হয়।

- Advertisement -

পথশ্রী প্রকল্পে এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা তখন জানাতেই পারেনি যে, পথশ্রী প্রকল্পে এই রাস্তা মেরামতের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ও বিরোধী জনপ্রতিনিধিরা এই শিলান্যাসের বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই রাস্তা সংস্কার করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে, সেখানে কেন নতুন প্রকল্পের জন্য এখানে শিলান্যাস করা হল এর সঠিক জবাব তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দিতে পারেননি। এদিকে দিনদিন রাস্তাটিও চরম বেহাল হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ, দুই জেলার লিংক রোড হওয়ায় এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর বালি, পাথরের গাড়ি চলাচল করে। ওভারলোড পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জেরে রাস্তাটি অনেক জায়গায় ভেঙে যায়। এই রাস্তায় বহু পুরনো গিরিয়া সেতুও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। স্বভাবতই রাস্তা সংস্কার না করে ঘটা করে শিলান্যাস নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে পরিস্থিতির চাপে সম্প্রতি রাস্তার সংস্কার শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্বপন কুন্ডু বলেন, ‘ওই বিতর্কের মধ্যে আমি নেই। এটা আমার রুটিন কাজ। প্রচুর ওভারলোড গাড়ি যাওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হচ্ছিল। তাই নিয়ম মেনে রাস্তার সংস্কার করা হচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মহানন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘ওভারলোড পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের রাস্তা এটি নয়। কিন্তু প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই। তবে পথশ্রীর বদলে ঠিকাদার কাজ শুরু করায় আমরা খুশি।’ পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘রাস্তার কাজ হওয়াটাই বড় কথা। এখানে বিতর্কের কিছু নেই। পথশ্রীর কর্মসূচি প্রশাসনের উপরমহল থেকে করা হয়েছিল। এখন ঠিকাদার কাজ করছেন। পথশ্রীর বরাদ্দ টাকায় এখন অন্য খারাপ রাস্তার কাজ হবে।’