গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে পিচের চাদর তুলে ফেললেন ঠিকাদার

160

রাঙ্গালিবাজনা: ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করে হাতে হাতে দাবি আদায় করে নিলেন গ্রামবাসীরা। অনিয়মের অভিযোগ তুলে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের উত্তর দেওগাঁওয়ে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ রবিবার বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অত্যন্ত দায়সারাভাবে রাস্তায় পিচ ঢালা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন কাজের ঠিকাদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, এলাকার বাসিন্দাদের দাবি মেনে ইতিমধ্যেই বিছিয়ে ফেলা পিচের চাদর তুলে ফেলা হবে। রবিবার বিকেল থেকেই ওই পিচের চাদর তুলে ফেলার কাজে হাত দিয়েছেন ঠিকাদার। ঠিকাদার তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ায় পরে অবশ্য গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়। দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আলম বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। ঠিক কি সমস্যা হয়েছে তা নিয়ে খোঁজখবর নেব।’

দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের উদ্যোগে উত্তর দেওগাঁওয়ের লকিয়তউল্লাহ হাট থেকে ঝার বেলতলি পর্যন্ত ৮ কিমি রাস্তাটির মধ্যে ২টি কিমি পাকা করার কাজ বেশ কিছুদিন আগে শুরু হয়েছিল। ওই কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩০ লক্ষ ৯৯ হাজার ১৬৭ টাকা। কাজের চার ভাগের তিন ভাগ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ হয়নি। শেষের কমবেশি ৪০০ মিটার রাস্তায় রবিবার সকাল থেকে পিচ ঢালা শুরু হয়। কিন্তু কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলে রুখে দাঁড়ান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল আলম বলেন, ‘অত্যন্ত পাতলাভাবে পিচ বিছানো হচ্ছিল। এছাড়া পাথরের উপরে জমা হওয়া মাটি, ধুলো সাফাই না করেই পাতলা কেমিক্যাল ঢেলে পিচের চাদর বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এভাবে কাজ করা হলে কয়েকদিন পরই রাস্তার পিচ উঠে যাবে। আর সাধারণত দেখা যায় প্রত্যন্ত গ্রামের পাকা রাস্তাগুলি একবার খারাপ হলে বছরের পর বছর আর মেরামত করা হয় না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ বন্ধ করে দেই।’

এদিন ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যান কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার। গ্রামবাসীরা তাঁকে জানান, দায়সারাভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া রবিবার যেটুকু পিচের চাদর বিছানো হয়েছে তা তুলে ফেলতে হবে বলে দাবি জানান তাঁরা। কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার মজিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃষ্টি হওয়ায় বালি পাথরের উপর মাটি মিশে গিয়েছিল। তা নিয়েই গ্রামবাসীরা আপত্তি তুলেছিলেন। ওদের জানিয়েছি ওই মাটি পরিষ্কার করে তবেই পিচ ঢালা হবে। এছাড়া রবিবার যেটুকু পিচ ঢালাই করা হয়েছিল তা তুলে ফেলার কাজও শুরু করা হয়েছে। এতে আমার আর্থিক লোকসান হল। কিন্তু গ্রামবাসীদের মতামতের বিরুদ্ধে কাজ করা সম্ভব নয়।’