দরজাবন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার গৃহবধূর গলার নলিকাটা মৃতদেহ

308

বর্ধমান: গলার নলি কাটা অবস্থায় শ্বশুরবাড়ির ঘরের মেঝেতে পড়েছিল এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ। পাশেই পড়েছিল রক্তমাখা ধারালো চাকু। এই ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের মনসাপাড়ায়।
পরিবার পরিজন ও প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূ শম্পা ঘোষকে (৩৮) উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই বধূকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিনই কাটোয়া হাসপাতাল পুলিশ মর্গে বধূর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের প্রাথমিক অনুমান, ওই গৃহবধূ আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মনসাপাড়ায় ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ি। তাঁর বাপেরবাড়ি কাটোয়ার ঘোরানাশ গ্রামে। তাঁর স্বামী দুধ ও ছানা ব্যবসায়ী।
বধূর স্বামী বিশ্বনাথ ঘোষ এদিন সকালে কাজের খোঁজে বেরন। ওই সময়ে তাঁদের এক মেয়ে অন্য ঘরে পড়াশুনা করছিল। পরে ওই মেয়ে মায়ের ঘরে এলে দেখে ঘরর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও মায়ের সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে সে দেখে মা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। মেয়ে লিপিকার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। দরজা ভেঙে গৃহবধূকে উদ্ধার করে।
বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, লকডাউনের কারণে কাজকর্ম নেই। সংসারে অনটন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে স্ত্রী মানসিক দুঃশ্চিন্তায় ছিল। সম্ভবত অবসাদেই ও নিজের জীবন শেষ করে দিল।
বধূর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ধ্রুব দাস বলেন, ওই মহিলার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যু নিয়ে কেউ কোনও  অভিযোগ দায়ের করেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে।