দেশের সম্পত্তি বিক্রেতা বিজেপি ভোট চাইছে কোন মুখে: মন্তব্য সিদ্দিকুল্লাহর

120

বর্ধমান: ‘সিপিএম খুনের বন্যা বইয়ে দিয়েছে আর বিজেপি দেশ টাকে বিক্রি করে দিচ্ছে।’ তার পরেও ওরা মানুষের কাছে ভোট চাইছে কোন মুখে? রবিবার পূর্ব বর্ধমানের মন্তশ্বরে আয়োজিত নির্বাচনী কর্মীসভায় যোগ দিয়ে এই প্রশ্ন তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। পাশাপাশি ভিড়ে ঠাসা কর্মীসভা থেকে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি এদিন ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোন কর্মঠ মুখ্যমন্ত্রী গোটা ভারতে আর একজনও নেই। তাই খেলা হবে, লড়াই হবে, লড়াই করে জিততেও হবে।

মন্তেশ্বর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এদিনের কর্মীসভা থেকে বলেন, ‘সিপিএম আমলে আলিমুদ্দিন থেকে দল চলত। আর ক্যাডাররা এলাকা চালাতো। সিপিএম খুনের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল। ৪০ হাজার মুসলমানকে খুন করেছে। মায়ের পেট চিরে রক্ত বের করে মাকেই খাইয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম তাঁর বাবা ও চাচাদের ১০০ বিঘা সম্পত্তি বর্গা করেছে। তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে তাঁর কাঁধের উপর দিয়ে গুলি চলে গিয়ে গিয়েছিল। সেই সিপিএমের এখন মাজা ভেঙে গিয়েছে। হাঁটতে পারে না।তাই এখন ওরা পীর সাহেবের হাত ধরেছে। ভোটের সময়ে ‘নাস্তিক’ আর ‘আস্তিকের’ মিল কিভাবে হল, সেই প্রশ্ন তুলেও এদিন তুলে ধরেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

- Advertisement -

সিপিএমের পাশাপাশি বিজেপি ও মোদী সরকারের বিরুদ্ধেও এদিন আক্রমণ শানান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিজেপি একটা ধার করা পার্টি। ওই পার্টির ৫৬ ইঞ্চি ছাতির মানুষটার মনটা ২ ইঞ্চির। ভারতবর্ষের ব্যাঙ্কগুলি থেকে ১০ লক্ষ কোটি টাকা লোন নিয়ে যে ২৮ জন চুরি করেছে তার মধ্যে ১৬ জন হল গুজরাটের। ব্যাঙ্ক লুঠকারী ১৬ জন পুঁজিপতি প্রতিনিধিরা সবাই মোদীজির আত্মীয় ও বন্ধু বলে অভিযোগ করেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লুঠেরারা এখন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
৬টা এয়ারপোর্ট ইতিমধ্যেই বিক্রি করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। ওরা দেশের সম্পত্তি সব বিক্রি করে দিচ্ছে। তারপরেও বিজেপি ভোট চাইছে, ওদের লজ্জা করে না।

বিজেপির দেশভক্তি ‘মেকি’ বলেও এদিন কটাক্ষ করেন মন্তেশ্বর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলা ও বাঙালি কি করে বাঁচবে, বাংলার সার্বভৌমত্ব কিভাবে বাঁচবে, বাঙালি সমাজের মাথা কিভাবে উুঁচু হবে এসব নিয়ে শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল নেত্রীই ভাবেন। তৃণমূলের কর্মীরাই আসল দেশভক্ত। তৃণমূলের কেউ মাতৃভূমি ভারতবর্ষের সাথে কোনদিন গদ্দারি করবে না। তৃণমূল ধান্দাবাজ বিজেপির কাছে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা শিখবে না। কারণ ওরা শুধু দেশকে বেঁচতে এসেছে, লুঠতে এসেছে বলে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন।