দূর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি আদালতের

155

হরিশ্চন্দ্রপুর: বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারিতে নতুন মোড়। সরাসরি অভিযুক্ত শাসকদলের প্রধানের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করল চাঁচল মহকুমা আদালত। দলের প্রধানের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হওয়ার অস্বস্তিতে তৃণমূল। দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ বন্যাত্রানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এফআইআর হলেও এবার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসকদলের প্রধানের টিকি ছুঁতে পারেনি পুলিশ। দুমাস বাদেও প্রধান ধরা না পড়ায় এবার তাকে ধরতে হুলিয়া জারি করল আদালত। সোমবার আদালতের ওই নির্দেশ ফেরার প্রধানের বাড়িতে ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছে পুলিশ। ২০১৭ সালে বন্যাত্রাণের টাকা লুঠের অভিযোগ ওঠে প্রধানের বিরুদ্ধে। প্রশাসন গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। তারপর আদালত সক্রিয় হতেই দুমাস আগে প্রধান সোনামনি সাহার বিরুদ্ধে এফআইআর করে প্রশাসন।

তদন্তে বন্যা ত্রানের ৭৬ লক্ষ টাকা লুঠ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। প্রধানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গের মতো জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় মামলা হতেই গা ঢাকা দেন তিনি। কিন্তু প্রধানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়। তারপরেই আদালত হুলিয়া জারি করে। একমাসের মধ্যে প্রধান ধরা না দিলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়। বন্যায় অনেকের বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়! এরপর রাজ্য সরকারের তরফে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ৩৩০০ টাকা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত উপভোক্তাদের অনেকেই টাকা পাননি বলে তারা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। প্রকৃত দুর্গতদের টাকা না দিয়ে প্রধান তার ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে তা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। এমনকি একেকজনের নামে পাঁচ থেকে ছ-বার করে টাকা ঢোকানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড ও বিহারের বলেও দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রশাসন অযথা ঢিলেমি করছে বলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন তৎকালীন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। তারপরেই হাইকোর্টের নির্দেশে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনামনি সাহার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানান বিডিও।

তবে শুধু প্রধান নন। বন্যাত্রাণের টাকা লুঠের অভিযোগে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। সভাপতি কোয়েল দাসও এখনও অধরা। হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান, প্রধানকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমরা আদালতে জানাই। তারপরেই আদালত ফেরার প্রধানের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করার নির্দেশ দেয়। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তেমন হলে তার বিষয়টিও আমরা আদালতকে জানাব। আব্দুল মান্নান জানান, দুর্গতদের টাকা লুঠ করা হয়েছে। মামলার জন্যই প্রশাসন তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে। আদালতের উপরে তাঁদের ভরসা আছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস অবশ্য বিষয়টি থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। তিনি জানান, দল দুর্নীতি সমর্থন করে না। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। ফলে আলাদা করে বলার কিছু নেই। আইন আইনের পথেই চলবে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রূপেশ আগরওয়ালের দাবি, শুধু একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নয়। দুর্নীতির যথাযথ তদন্ত হলে তৃণমূল নেতা, জনপ্রতিনিধিদের অনেককেই জেলে থাকতে হবে।