চিনা আগ্রাসন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল সিপিআইএম

442

কলকাতা: লাদাখের গালওয়ানে চিনা সেনাদের হাতে ভারতীয় জওয়ানদের মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দায় মুখর গোটাদেশ। চিনের প্রতি যখন বিদ্বেষ উগরে দিচ্ছেন দেশবাসী, তখন অবশ্য কোনও মন্তব্য করেনি সিপিআইএম। সম্ভবত তাঁদের এই চুপ করে বসে থাকাটা জনগণের কাছে বিরূপ বার্তা পৌঁছাবে ভেবে ঘটনার তিন দিন পর অবশেষে মুখ খুলল সিপিআইএম।

বৃহস্পতিবার সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, গতকাল বুধবারই দলের তরফে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিহত অফিসার ও জওয়ানদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্য বাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আমরা কোনোদিনই চিনপন্থী বা রুশপন্থী ছিলাম না। অরুণাচল নিয়ে চিনের দাবিকে আমরা বরাবরই প্রকাশ্যে অন্যায্য বলে এসেছি। কিন্তু ট্রাম্পের মতো আমরা চিনকে শত্রু বলে যুদ্ধ চাই না। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কে যুদ্ধ চায়? পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে ওই পথে। আমরা তাই শান্তির কথা বলেছি। শান্তির পথ হলো আলোচনা।”

- Advertisement -

‘‘আমরা কোনোদিনই চীনপন্থী বা রুশপন্থী ছিলাম না। অরুণাচল নিয়ে চীনের দাবিকে আমরা বরাবরই প্রকাশ্যে অন্যায্য বলে এসেছি। কিন্তু ট্রাম্পের মতো আমরা চীনকে শত্রু বলে যুদ্ধ চাই না। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কে যুদ্ধ চায়? পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে ওই পথে। আমরা তাই শান্তির কথা বলেছি। শান্তির পথ হলো আলোচনা।”

তিনি আরও বলেছেন, ‘ভারতের স্বার্থ সুরক্ষা আমরা সবসময়েই চাই। তার জন্য শান্তির প্রয়োজন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকেও শান্তির জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা বলা হয়েছে। আমরাও বলছি, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা মেটানো সম্ভব। সামরিক পর্যায়ে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করার দরকার আছে।’দুটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনও দেশের পক্ষেই তা সুখকর হবে না বলে মনে করেন তাঁরা।

উল্লেখযোগ্য, ১৯৬২ সালে চিন ভারত আক্রমণ করার পর কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বিভাজন ঘটেছিল। কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যাঁরা চিনপন্থী ছিলেন তাঁরা আলাদা হয়ে গিয়ে সিপিআইএম দল গঠন করেছিলেন। আর যাঁরা তাতে বিশ্বাসী ছিলেন না, তাঁরা ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে থেকে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই চিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও সিপিআইএম নেতাদের মুখ খুলতে দেখা যায়নি। এ পর্যন্ত লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেশের সব রাজনৈতিক দলই বিক্ষোভে সামিল হলেও এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএমকে কোনও বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা যায়নি। যা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যেজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।