রাজ্যে প্রধান শত্রু কে, স্পষ্ট করেনি সিপিএম

513
ফাইল ছবি

 

রাজ্যে প্রধান শত্রু কে, স্পষ্ট করেনি সিপিএম| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
রহিত বসু

সকালবেলা আমার হয়েছে যত জ্বালা! রাজ্যের লোক ফোন করবেন আর তাঁদের ধারণা, তাঁদের যাবতীয় প্রশ্নের জবাব আমার কাছে আছে। আমাকে তাঁরা যেন গুগল ধরে নিয়েছেন। কিন্তু গুগলের কাছেও কি সব প্রশ্নের জবাব থাকে? মনে হয় না। যেমন ধরুন, একজন জানতে চাইলেন, সরকার তো সাইকেলে যাতায়াত করতে বলছে। তাহলে কি সরকারি কর্মচারীদের সবুজ সাথীর সাইকেল দেওয়া হবে? আবার আরেকজন জিগ্যেস করলেন, মাস্ক কি মাদুলি, যে সবাই গলায় ঝুলিয়ে ঘুরছেন? অথবা, আমপানের তাণ্ডবে যাঁরা জরুরি কাগজপত্র হারিয়েছেন, তাঁরা কি এখনও ভারতীয় নাগরিক? আমি ভাবছি রাজ্য সরকার যত ভেন্টিলেটার কিনেছে, উত্তরবঙ্গের ভাগে তার কত অংশ জুটেছে অথবা আদৌ জুটেছে কি না, তখন লোকজন আমাকে ব্যস্ত করে রাখছেন যত উলটোপালটা প্রশ্নে। কী যন্ত্রণা বলুন তো! আর এর মধ্যে খবর পেলাম, সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে, আর তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছে।

- Advertisement -

এখন সবাই বেশ একটা অনলাইন অনলাইন করছে। ভালো। মাটির মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে অনলাইনে জাঁকজমক সৃষ্টি করে যদি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়, ক্ষতি কী! সিপিএমের তাত্ত্বিক মুখপত্র মার্কসবাদী পথ-ও তো দেখলাম অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, হয় সিপিএম ধরে নিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে শুরু করে কোচবিহারের বক্সিরহাটের মতো প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত সব কমরেডের কাছে স্মার্টফোন, কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ আছে, নতুবা সব কমরেডের তাত্ত্বিক পত্রিকা পড়ার দরকার নেই। তাঁরা নেতাদের বক্তৃতা শুনে নেবেন। তাত্ত্বিক পত্রিকা শুধু হোয়াইট কলার কমরেডদের জন্য। নেতারা যদি এরকম ভেবে থাকেন, ভালো কথা। সিপিএম তাদের পাঁঠা লেজে কাটবে না মুড়োয় কাটবে সে তাদের ব্যাপার। মানুষের সামনে আরও অনেক কাজ রয়েছে।

সেসব অন্য কথা। তবে অনলাইনে সিপিএমের তাত্ত্বিক পত্রিকা পড়ে আমার অবশ্য ওই দলের রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে কিছু মাথায় ঢোকেনি। সিপিএমের এই এক সমস্যা। সব কিছুতে ধোঁয়াশা। চিরকাল। যেমন, সিপিএম নেতাদের জিজ্ঞেস করুন, তোমাদের কাছে কে বড় শত্রু? তৃণমূল, না বিজেপি? দেখবেন, মার্কস-লেনিনের মোটা মোটা বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আপনাকে এমন বোঝাবে যে, শেষবেলায় আপনি আপনার প্রশ্নটাই গুলিয়ে ফেলবেন। এসব আগেও হয়েছে। কংগ্রেসকে সমর্থনের সময়ও সিপিএম ১০০ হাবিজাবি যুক্তি হাজির করেছিল। আমার কথা হল, তুমি স্পষ্ট করে বল, কে তোমার প্রধান শত্রু? তৃণমূল, না বিজেপি? কোন দলকে তুমি মানুষের বড় শত্রু বলে মনে করো? এখনই জবাব ঠিক করে নিয়ে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করো। তুমি শুধু বলবে, বিজেপি কখনোই তণমূলের বিকল্প হতে পারে না, তা চলবে না। স্পষ্ট করে বলতে হবে, কে তোমার বড় শত্রু। তাহলেই তোমার রাজনৈতিক অবস্থান মানুষের সামনে স্পষ্ট হবে। তুমি যদি বলো কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে, তাহলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির অবকাশ থেকে যায়। ভোটের কিন্তু আর বেশি দেরি নেই। যাঁরা বলছেন করোনার মরশুমে রাজনীতির কথা বা ভোটের কথা বলতে নেই, তাঁরা নাটক করছেন। রাজ্যের দাবিদাওয়ার কথা বলতে গেলেও তো রাজনীতির কথাই বলতে হবে। অতএব, সিপিএমকেও রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট করতে হবে। সোজা কথা সোজা ভাবে। পশ্চিমবঙ্গে যেহেতু বিজেপির প্রচারের তীব্রতা বাড়তেই থাকবে, সঙ্গে দলবদলের প্রবণতাও বাড়বে, তাই সিপিএমকেও স্পষ্ট হতে হবে।

আমি অবশ্য তেমন কোনও লক্ষণ দেখছি না। য়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইশ্যুতে কলকাতা থেকে চারটে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া জেলায় জেলায় সিপিএমের এমন কোনও কার্যকলাপ নজরে আসছে না, যাতে সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি হতে পারে। আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন, ৭ পার্সেন্ট ভোট পাওয়া একটা দলকে নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন? তার কারণ আছে। মনে রাখবেন, গত লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির উত্থানের পিছনে সিপিএমের কর্মী ও সমর্থকদের বড় অবদান ছিল, সে বুঝে হোক অথবা না বুঝে। বিধানসভা নির্বাচনেও একইভাবে সিপিএমের কর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং অন্য দলের জেতা-হারার উপর তার প্রভাব পড়বে। ৭ পার্সেন্ট অবশ্য ১৭ পার্সেন্ট হবে কি না, তা এখনই বলতে পারছি না। ওসব জ্যোতিষীদের কারবার!