বিধানসভা ভোটে ৬০ শতাংশ তরুণ প্রার্থী চায় সিপিএম

272

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : লড়াই হবে রাজপথে / লড়াই হবে আলপথে / লড়াইয়ে হবে জান কবুল / লড়াই হবে শেষ তক।- এই স্লোগানেই বিধানসভা ভোটের আগে উজ্জীবিত হতে চাইছে সিপিএম। কিন্তু লড়াইটা করবে কারা? এতদিন যাঁরা দলের সামনের সারিতে থেকেছেন, তাঁরা? উত্তরটা না। কারণ ধুতি পরে, মাথায় সাদা চুল নিয়ে যে আর লড়াই সম্ভব নয়, তা এতদিনে বুঝতে পেরেছেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। তাই একুশের বিধানসভা ভোটে তরুণ তুর্কি চাইছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি রাজ্যস্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঠিক হয়েছে, তরুণদের মধ্যে থেকেই ৬০ শতাংশ প্রার্থী বাছাই করতে হবে। আর এতেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন দলের যুব নেতৃত্ব।

মাথার চুল সাদা না হলে নাকি সিপিএমের বড় নেতা হওয়া যায় না, এতদিন সিপিএমের অন্দরেই এমন প্রবাদ শোনা যেত। সেই প্রবাদ কতটা ঠিক, তা নিয়ে তো বিতর্ক রয়েছেই। তবে রাজ্যের অধিকাংশ জায়গাতেই সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর যাঁরা সদস্য রয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই প্রবীণ। এমনকি এতদিন যাঁদের ভোটে প্রার্থী করা হত, তাঁদের বেশিরভাগই ষাটোর্ধ্ব। যেমন ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে বাম-কংগ্রেসের জোট হয়েছিল। সেবার কোচবিহারে নয়টি আসনের মধ্যে সিপিএম নাটাবাড়ি, মাথাভাঙ্গা ও শীতলকুচি- এই তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। নাটাবাড়িতে তমসের আলি, মাথাভাঙ্গায় খগেনচন্দ্র বর্মন ও শীতলকুচিতে নবদীপ্তি অধিকারীকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এঁদের মধ্যে তমসের আলির বয়স ৬৫ বছরের বেশি। বাকি দুজনেরও বয়স ছিল প্রায় ৫০-এর কাছাকাছি। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে যাঁরা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের বয়স ছিল আরও বেশি। তাঁরা সকলেই ভোটে হেরেছিলেন।

- Advertisement -

এতক্ষণ এই কথাগুলো বলার কারণ একটাই। প্রার্থী হোক বা দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সবক্ষেত্রেই এতদিন প্রবীণদের গুরুত্ব দিয়ে এসেছে সিপিএম। তা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য কম হয়নি। দলীয় শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলতে না পারলেও দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের দীর্ঘদিন ধরেই এটা নিয়ে চাপা ক্ষোভ ছিল। প্রার্থী মনোনয়ন ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিকাংশ সময় প্রবীণদের রাখায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা ঘরে বসেই মোবাইলে বা টেলিফোনের মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ করার চেষ্টা করতেন। গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে অথবা বাইরে তাঁরা খুব একটা বেশি ছোটাছুটি করতেন না। ঘরে বসে এইসব কাজ করতে গিয়ে জনসংযোগে খামতি থেকে যাচ্ছিল সিপিএম নেতাদের। ফলে আপদে-বিপদে নেতাদেরকে পাশে না পেয়ে সিপিএমের থেকে ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে নিতে শুরু করেন সাধারণ ভোটাররা। ক্ষমতা হারানোর প্রায় দশ বছর পর বাস্তব পরিস্থিতি উপলদ্ধি করতে পেরেছেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব। যদিও সূত্রের খবর, দলের যুবনেতাদের চাপে পড়েই সিপিএমকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সম্প্রতি এই নির্দেশ সমস্ত জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের তরফে এই নির্দেশ আসায় জেলাগুলিতে সিপিএমের অন্দরে বিশেষ করে দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রার্থী করার ক্ষেত্রে এবার আমরা তরুণদের উপরে জোর দেব। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এটা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা কোথাও যদি না হয়, তবুও চেষ্টা করতে হবে তরুণদের মধ্যে যাতে প্রার্থী করা যায়। তাঁর কথায়, মানুষ এখন ইয়ং জেনারেশনের নেতা চাইছে। কারণ তাঁদের কাজে উদ্যম রয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁরা নিজেদের গড়ে তুলতে পারবেন। এইসব ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তরুণ মানে কি বছর ৩৫-এর মধ্যেই? এর উত্তরে তিনি বলেন, তরুণ বলতে ৪০ হতে পারে, ৫০ হতে পারে, আবার ৪০-এর নীচেও হতে পারে। কিন্তু কোনওভাবেই তা ৫০-এর বেশি নয়। তবে শুধু সিপিএমই নয়। ফরওয়ার্ড ব্লকও ইয়ং জেনারেশনের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহারের জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর বলেন, আমরা তো তরুণদেরই প্রার্থী করি। এবারেও যুবকরাই প্রাধান্য পাবে।