করোনার জের, ভিড় বাড়ছে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে

395

গৌতম দাস, গাজোল: “করোনা”-তিন অক্ষরের এই শব্দ ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে আমজনতার। তাই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে বর্তমানে যেন হঠাৎ করেই একটু বেশি সচেতন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

করোনা উপসর্গের একটি হল জ্বর। তাই সাধারণ জ্বর হলেও হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন রোগীরা। এর জেরে পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার, নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ১৫০-২০০ জন রোগী আসছেন বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে। প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তার কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত ডাক্তারদের। তবুও তার মধ্যেই স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন জনাকয়েক ডাক্তার।

- Advertisement -

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শ্যামসুন্দর হালদার জানালেন, আউটডোরে রোগীদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামান্য জ্বর হলেও অনেকে আতঙ্কে ভুগছেন। তবে আমরা সতর্ক আছি। আউটডোরে আলাদা করে “ফিভার ক্লিনিক” খোলা হয়েছে। জ্বর সংক্রান্ত সমস্ত চিকিৎসা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেখানে করা হচ্ছে। আর অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা আউটডোরের নির্দিষ্ট জায়গায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০-২০০ রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে আউটডোরে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে কিছুটা লাগাম টানা হয়েছে। খুব জরুরি অবস্থা ছাড়া রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। তবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের কাজ প্রতিদিনই হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৬-৮ টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। ইমারজেন্সি খোলা থাকছে ২৪ ঘন্টাই।

হাসপাতালের আরেক ডাক্তার জার্মান চঁড়ে জানান, ভিন রাজ্য থেকে যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা আসছেন তাঁদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই সমস্ত শ্রমিকদের মধ্যে থেকে কোনও করোনা আক্রান্তের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। কয়েকজনের ক্ষেত্রে সন্দেহ হওয়ায় আমরা পরীক্ষার জন্য তাঁদের মালদা মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছিলাম। একইসঙ্গে প্রত্যেকটি পরিযায়ী শ্রমিকদের বলা হয়েছিল হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে। তাঁদের উপর নজর রেখে চলেছিলেন এলাকার আশাকর্মী, এএনএম সহ গ্রাম পঞ্চায়েতের টাস্কফোর্সের কর্মীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালের বিভিন্ন পরিসেবার উপর ভিত্তি করে “কায়াকল্প” প্রকল্পে রাজ্যের মধ্যে সেরা গ্রামীণ হাসপাতালের তকমা পেয়েছে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতাল। শ্যামসুন্দরবাবু জানান, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সেই অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়ার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তারের সংখ্যা অনেক কম। কিন্তু তবুও তার মধ্যে চেষ্টা করছি সেরা পরিষেবা দেওয়ার। তবে সবাইকে খুশি করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

ডাক্তারবাবুরা আরও জানালেন, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন সারাদেশের ডাক্তার, নার্স সহ সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা। অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরাও স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে চলেছি। তবে আমজনতার কাছে আমরা আবেদন করছি আপনারা কোনও ঝুঁকি নেবেন না। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হবেন না। বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ছবি: পঙ্কজ ঘোষ