করোনায় মৃত্যু ব্যবসায়ীর, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

281

পুরাতন মালদা: চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে করোনা সংক্রামিত এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে। মৃত ব্যক্তির নাম মানস কুমার আগরওয়ালা (৬১)। তিনি মালদা শহরের এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এই নিয়ে মালদা জেলায় মোট বারোজন করোনা সংক্রামিতের মৃত্যু হল।

হাসপাতালে সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে নারায়ণপুরের কোভিড হাসপাতালে মৃত ব্যবসায়ী ইংরেজবাজার পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মকদুমপুর এলাকার বাসিন্দা। এদিন দুপুর দু’টো নাগাদ প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোভিড হাসপাতালেই মারা যান তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ১৫ জুলাই মানস বাবুকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থা অবনতির কারণে তাকে সিসিইউ-এ রাখা হয়। পাশাপাশি তার লালার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট করোনা পজিটিভ এলে ১৬ জুলাই তাকে পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ক্রমে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে বলে দাবি করেছেন পরিবারের লোকেরা। ফোন করে নিজের সুস্থতার কথা মানসবাবু নিয়মিত বাড়ির সদস্যের জানাতেন বলে জানা গেছে। রবিবার সকালে তার রক্ত পরীক্ষার কথা ছিল। সেজন্য তিনি শনিবার রাতের খাবারের পর আর কিছু খাননি বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকেরা। যদিও রবিবার বেলা এগারোটা পর্যন্ত তার রক্ত পরীক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

- Advertisement -

মৃতের ভাইপোর অভিযোগ, ” জ্যাঠামশায় রবিবার সকাল থেকে বেশ কয়েকবার ফোন করে রক্ত পরীক্ষার কথা জানিয়েছিল। রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রায় চোদ্দ ঘন্টা তিনি না খেয়েই ছিলেন। কিন্তু বেলা এগারোটা নাগাদও রক্ত পরীক্ষা না হওয়ায় বাড়িতে ফোন করে তিনি জানান, তার শরীর খারাপ হচ্ছে। এ কারণে তিনি একজন চিকিৎসকের বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা বাড়ির লোকের কাছে করেন।এরপর আমরা হাসপাতালে ফোন করে বিষয়টি জানাই। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না। দুপুর দু’টো নাগাদ জানতে পারি জ্যাঠামশাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, কেন রক্ত পরীক্ষার জন্য একজন বয়স্ক রোগীকে চোদ্দ ঘন্টা না খেয়ে থাকতে হল? কেন দ্রুত রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হল না? রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলেও কেন কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর নজরে বিষয়টি আসল না? সংকটাপন্ন জেনেও কেন রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়নি? আমরা মনে করছি, চিকিৎসায় গাফিলতির জন্যই ওনার মৃত্যু হয়েছে।”

হাসপাতালে সূত্রে খবর, কোভিড হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করেন মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্য আধিকারিক। এই বিষয়ে তাকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।