Modern creative businessman illustration concept.

শমিদীপ দত্ত,  শিলিগুড়ি :  শহরে বদলাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। তার ঝাপটা লেগেছে শহরের উঠতি যুবকদের মধ্যেও। সেই ঝাপটায় তাদের অতিরিক্ত টাকার চাহিদা বেড়েছে। আর এর জন্য বেড়েছে হাতের জিনিস বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করার প্রবণতা। বন্ধকের জন্য কেউ ব্যবহার করছেন মোবাইল, কেউ বাইক। এই টাকা আবার চড়া সুদসমেত শোধ করা হচ্ছে কিস্তিতে। যদিও সুদ দিতে না পারার জন্য যুবকরা নিজেদের মধ্যে ঝামেলাতেও জড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি বাড়িতে নানা অজুহাত দিয়ে এই বন্ধকের কাজকর্ম চলায় বহু সময়ে জল বহু দূর গড়ানোর পর অভিভাবকরা জানতে পারছেন। গোটা ঘটনার পেছনে একদিকে য়েমন আধুনিক জীবনে অতিরিক্ত টাকার চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে নেশার প্রতি আসক্তিও একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।  শহরে ছোটো থেকেই অনেকের হাতে উঠছে মোবাইল ফোন। আর আঠারোর গণ্ডি পেরোতেই যুবকদের কাছে বাইক অপরিহার্য হিসেবে জোগাড় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই দুই জিনিসকে শহরের উঠতি যুবকদের একাংশ অতিরিক্ত টাকা জোগাড় করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে অন্য পথে চলে যাচ্ছে। প্রধানত যুবকরা বাইক, মোবাইল বন্ধক রেখে ৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার অঙ্গীকার করে কেউ ১০,০০০ টাকা নিচ্ছে, কেউ আবার নিচ্ছে ২০,০০০ টাকা। কিন্তু এরপরেই সুদ দেওয়া নিয়ে শুরু হচ্ছে বাকবিতণ্ডা। বাইক, মোবাইলের খোঁজ বাড়ির অভিভাবকরা জিজ্ঞাসা করলে কেউ সার্ভিসিং, কেউ বন্ধুকে কিছুদিনের জন্য দেওয়ার কথা বলায় অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে অনেকটা দেরি হয়ে যাচ্ছে। ঠিক যেমন দেরি হয়েছে ৭ নম্বর ওযার্ডের এক যুবকের অভিভাবকের। ওযার্ড কাউন্সিলার পিন্টু ঘোষ বলেন, ওঁরা আমার কাছে হঠাত্ করে  এসে বলেন পরিবারকে না বলে ছেলে বাইক বন্ধক রেখেছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখি ২২ বছর বয়সি ওই ছেলে ২৪ বছর বয়সি এক ছেলের কাছে বাইক বন্ধক রেখেছে। কিন্তু ওই ছেলেও কমবয়সি হওয়ায় সেই ছেলেটিও ওই বয়সি আরেক যুবকের কাছে আবার সেই বাইক বন্ধক দিয়ে দিয়েছে। পিন্টুবাবু বলেন, এর পেছনে নেশার টাকা জোগানোর একটা কারণ রয়েছে। অন্যদিকে, বেশিরভাগ বাইক অর্থলগ্নি সংস্থার সাহায্যে কেনা। ফলে অর্থলগ্নি সংস্থাগুলি বাইকের খোঁজ নিয়ে যাওয়ার পর সমস্যা আরও বাড়ছে।

অভিভাবকদের অসেচতনতা একটা বড়ো কারণ বলে মনে করছেন শহরের সংস্কৃতিকর্মী অমিতাভ কাঞ্জিলাল। তিনি বলেন, ভোগবিলাসের চক্রব্যূহে উঠতি প্রজন্ম ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে কিন্তু অপরাধমূলক পথে যাওয়ারও একটা রাস্তা খুলে যাচ্ছে। কারণ টাকা যখন দিতে পারছে না তখন যতই বন্ধু হোক নিজেদের মধ্যে কিন্তু একটা হানাহানি শুরু হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক থেকে রাজনৈতিক সমস্ত কারণেই আজ উঠতি প্রজন্ম বিপথগামী। এই বিপদের পথ থেকে বাঁচানোর দাযিত্ব কিন্তু অভিভাবকেরই। কারণ অভিভাবকের নজর রাখা প্রয়োজন ছেলের হাতে অতিরিক্ত পয়সা এলে সেটা কোথা থেকে আসছে। বাড়ির থেকে এ বিষয়ে নজরদারি শুরু করা না গেলে এই সমস্ত যুবক  বিপথে চলে যাবে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি পদমর্যাদার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রযোজন। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তারজন্য আমরাও সব সময়ে নজর রাখছি।