ইদে বাড়িতে বানানো সেমাইয়ের চাহিদা তুঙ্গে চাঁচলের গ্রামগুলিতে

146

মুরতুজ আলম, চাঁচল: পবিত্র ইদে বাড়িতে হাতে বানানো সেমাই আজও প্রচলিত চাঁচলের গ্রামগুলিতে। আর কয়েকদিন বাদেই দেশজুড়ে পালিত হবে মুসলিমদের পবিত্র ইদ-উল-ফিতর। তার আগেই সেমাই তৈরিতে ব‍্যস্ততা শুরু করেছে গ্রাম‍্য গৃহবধূরা। যুগের পরিবর্তন ঘটলেও বাজার থেকে হরেক রকমের লাচ্ছা সেমাই না ক্রয় করেই হাতে তৈরি সেমাইয়ের সঙ্গে একান্তভাবে জড়িয়ে রয়েছেন গ্রাম‍ বাংলার নারীরা। সেমাই বানানোর যন্ত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ আটার মণ্ড রেখে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সেমাই তৈরি করছে বাড়ির নারীরা। তাতে মদত দিচ্ছেন ঘরের ছেলেরাও।

এমনই দৃশ‍্য ধরা পড়ল এবছর। সোমবার চাঁচল কলিগ্রাম নিমতলায় একটি পরিবারের বাড়ির মহিলারা এই উদ‍্যোগ নিয়েছে। তারা সকলেই কেউ গমের আটা বা কেউ ময়দা দিয়ে স্বাভাবিক জলে আটা মাখিয়ে মিশ্রভাবে ঠুসে দিচ্ছেন সেই হাতল যন্ত্রের মুখদ্বারে। পাশে দুজন বসে হ্যান্ডেল ঘুরাচ্ছেন। এভাবেই এক মিনিটের মধ‍্যে দফায় দফায় সেমাই বের হতে থাকে। তাঁরা জানান, এক কেজি আটার সেমাই তৈরি করতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে। তারপরই রোদে শুকোতে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

বাড়িতে তৈরি সেমাই তৈরির প্রথা তাদের প্রায় পাঁচ পুরুষ ধরে চলে আসছে বলে জানান কলিগ্রাম নিমতলার এক গৃহবধূ সেরিনা খাতুনরা। তবে বানানো সেমাইয়ের জায়গা দখল করে নিয়েছে কারখানায় বানানো সেমাই। এতে করেও হাতে বানানো সেমাই খাওয়ায় ভাটা পড়েনি খুব একটা। কোনও কোনও পরিবারে এখনও বাজারের কেনা সেমাইয়ের পাশাপাশি ঐতিহ্য মেনে ইদে হাতে বানানো সেমাই খাওয়া হয়। এই রীতি প্রতিটি ঘরে ঘরে আজও প্রচলিত।

তাদের পরিবারের মৌসুমী খাতুন, নুর বানু, মাসুমা খাতুন, জাহাঙ্গীর আলম, শেরিনা খাতুনরা জানান, বাজারের সেমাইয়ে কি জাতীয় তেল মেশানো হয় আমরা নিজেও জানিনা। সেগুলো রান্না করলে পেটের ক্ষতি করে। তাই ভেজাল মুক্ত এবং স্বচক্ষে দেখে নিজের বাড়িতেই তৈরি করছি সেমাই। বাড়ির লোকেদের খাওয়ার পরেও বাজারে কিছু বিক্রি করে আর্থিক মুনাফাও হয়।