বনদপ্তরের অনুমতি সত্ত্বেও গাছ কাটতে বাধা উপ-প্রধানের, টাকা দাবির অভিযোগ

131

বর্ধমান: বনদপ্তর অনুমতি মিললেও গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের বাধায় নিজের জমিতে থাকা গাছ কাটতে পারছেন না এক চাষি পরিবার। পূর্ব বর্ধমানের রায়না-১ ব্লকের সাঁকটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আনগুনা গ্রামের ঘটনা। উপ-প্রধান বিপ্লব গুহর এমন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই চাষি পরিবার। যদিও উপ-প্রধান বিপ্লব গুহর সাফ জবাব জরিমানা বাবদ ২০ হাজার টাকা পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্টে জমা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুতেই গাছ কাটতে দেবেন না। গাছ কাটা নিয়ে বিপ্লব বাবুর এহেন বিপ্লবী ভূমিকা দেখে হতবাক স্থানীয়রা।

ফসল উৎপাদনের স্বার্থে জমির গাছ কাটার লক্ষ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে লিখিত আবেদন করেছেন পুষ্পরাণি দত্ত। প্রশাসনকে জানিয়েছেন, আনগুনা মৌজার ৩৫৩০ দাগ নম্বরে তাঁর একটি উর্বর চাষযোগ্য শালি জমি রয়েছে। সেখানে কয়েকটি গাছ রয়েছে। জমিতে গাছ থাকার তাঁদের জন্য চাষে সমস্যা হয়।জমিতে রোদ না পড়ায় ফসলের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই কারণে কিছুদিন আগে তাঁর ছেলে স্বপন দত্ত জমিতে থাকা ২টি গাছ কেটেছিল। সেই সময়েই সেখানে পৌছে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব গুহ গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। এমনকি তিনি জরিমানা বাবদ ২০ হাজার টাকা পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্টে জমা দেবার কথা তাঁর ছেলেকে বলে দেন।

- Advertisement -

পুষ্পরাণি দেবীর অভিযোগ, টাকা জমা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন লোক মাধ্যমে তাঁর ছেলের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এরপর গাছ কাটার জন্য তিনি জমির কাগজপত্র সহ বনদপ্তরের কাছে অনুমতি চান। বনদপ্তর ৩টি গাছ কাটারই অনুমতি দেয়। কিন্তু পঞ্চায়েত থেকে তাঁকে গাছ কাটতে দেওয়া হচ্ছেনা। এই ঘটনায় বিহিত চেয়েই প্রশাসনের নানা মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

যদিও সাঁকটিয়া পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান বিপ্লব গুহ দাবি করেছেন পুষ্পরাণি দেবীর বক্তব্য সঠিক নয়। উপ-প্রধান বলেন, ‘আনগুনা গ্রামে সেচখালের পাশে পঞ্চায়েত থেকে গাছ লাগানো হয়েছিল। কারোও জমিতে ওই গাছ লাগানো হয়নি। পঞ্চায়েতের অনুমতি না নিয়েই সেই গাছ কাটা হচ্ছিল। সেই কারণে গাছ কাটতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের গাছ কাটার জন্য জরিমানা বাবদ ২০ হাজার টাকা দিতেও ওনাদের বলা হয়েছে।’