বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে একগুচ্ছ উদ্যোগ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের

361

অরুণ ঝা, ইসলামপুর: ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। আর ঠিক তাই করোনা আবহের প্রতিকূলতা সামলেও মাঠে নেমে পড়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ফোর্ট নাইট সেলিব্রেশনের মাধ্যমে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। বিশেষ করে টিনেজার দম্পতিদের জেলাজুড়ে চিহ্নিতকরণের কাজের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মা ও শিশুর মৃত্যু এবং অপুষ্টির হার যাতে কমানো যায় সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

এই মর্মে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রবীন্দ্রনাথ প্রধানের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ বলে স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভেতরেই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কারণ ইতিমধ্যে করোনা আবহে ‘এগিয়ে বাংলা’য় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একইভাবে করোনা আবহে জেলার স্বাভাবিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ঠিক রাখতে ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ডাঃ প্রধান তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছেন। ফলে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের কথা মাথায় রেখেও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর মাঠে নেমে পড়েছে।

- Advertisement -

এবারে স্বাস্থ্য দপ্তরের শ্লোগান, ‘আদর্শ ছোট পরিবার। ছেলে অথবা মেয়ে অথবা দুটোই।’ সঙ্গে প্রথম বছর সমস্ত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ডাঃ প্রধান বলেন, ‘জনসংখ্যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও এই বিষয়ে আমরা জেলাজুড়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। গ্রামীণ এবং শহর দুই এলাকাতেই এই কর্মসূচি পালন করা হবে। মাতৃত্বের সঠিক বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর। একইভাবে কম বয়সী দম্পতিদের চিহ্নিত করে তারা যাতে কন্ট্রাসেপ্টিভ ডিভাইস ব্যবহার করে তা নিয়েও স্বাস্থ্য দপ্তর কাজ করছে। কারণ উপযুক্ত সময়ে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাতৃত্বের কারণে মা ও শিশু উভয়েই সংকটে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। মৃত্যু এবং অপুষ্টি ঘিরে ধরে। বেশি বয়সে সন্তান না নেওয়া। তাতেও শিশুর জন্মগত একাধিক রোগ সহ মায়ের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা থাকে। আমাদের ফিল্ডে আশা কর্মী থেকে শুরু করে হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আন্বেষা সেন্টারের কর্মীরাও এই কাজে ঝাঁপিয়েছেন। সঙ্গে বাল্যবিবাহ রুখতে আমরা সমাজসেবী সংগঠনের সহযোগিতাও চাইছি। মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে কর্ম তৎপরতা করোনা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে একাধিক কর্মসূচি নিতে আমাদের উৎসাহ জুগিয়েছে। ১১ জুলাই অর্থাৎ শনিবার জেলাজুড়েই কর্মসূচি পালন শুরু হবে।’

ডাঃ প্রধান আরও বলেন, ‘কিশোর কিশোরী দম্পতিদের ক্ষেত্রে আমরা বলছি ২০ বছরে সন্তান নিতে। তার আগে পর্যন্ত অস্থায়ী কন্ট্রাসেপ্টিভ ডিভাইস ব্যবহারের ওপর আমরা সচেতন করছি।’

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলাতেও কর্মী এবং পরিকাঠামো সংকট নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নিরলস কাজ ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।