আক্রান্ত থেকেও কনটেনমেন্ট জোনের তালিকায় নেই জেলার নাম

444

আসানসোল: নবান্ন থেকে রাজ্যজুড়ে জেলা ভিত্তিক যে কনটেনমেন্ট জোনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কোনও নাম নেই। তবে নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসনকে জেলার করোনা পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা করার নির্দেশ বৃহস্পতিবারই পাঠানো হয়েছিল। সেইমতো শুক্রবার আসানসোলে জেলাশাসকের কার্যালয়ে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজির উপস্থিতিতে প্রশাসনিক স্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দূর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুকেশ জৈন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দেবাশিস হালদার সহ পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা।

বৈঠকের পরে আসানসোল পুরনিগমের কমিশনার তথা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, ‘এখানও পর্যন্ত জেলার করোনা পরিস্থিতি কি, তা নিয়ে এদিন সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে। কতজন এখনও পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, কতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, মারা গিয়েছেন কতজন, কোন কোন এলাকায় করোনা হয়েছে, সব কিছুরই আলোচনা করা হয়েছে। এই জেলায় এখনও পর্যন্ত কোনও কনটেনমেন্ট জোন নেই।’

- Advertisement -

অতিরিক্ত জেলাশাসক আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইনে কনটেনমেন্ট জোনের জন্য যে তিনটি প্যারামিটার বলা আছে, সেগুলো এখানে নেই। তাই কনটেনমেন্ট জোন নেই। তবে রানিগঞ্জ শহরের কুমারবাজার এলাকা নজরদারিতে রয়েছে। সেই এলাকাটিকে কনটেনমেন্ট জোন করা হতে পারে। তার জন্য প্রশাসনের তরফে সমীক্ষা করা হবে।’ অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, ‘শনিবার থেকে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার সহ অন্য সব আধিকারিক এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। জেলার সবাইকে মাস্ক পড়তে বলা হচ্ছে। মানতে হবে, সামাজিক দূরত্ব সহ সবরকম স্বাস্থ্যবিধি। কেউ তা না মানলে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দেবাশিস হালদার বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় রানিগঞ্জ এলাকায় ১৪ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। সেই কারণে ওই এলাকা নজরদারিতে রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের তরফে সমীক্ষা করা হচ্ছে।’

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৩ জন। অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৩৪। মারা গিয়েছেন পাঁচজন।