এলাকায় থামছে ভিন জেলার ট্রাক, সংক্রমণের আশঙ্কায় ভীত স্থানীয়রা

249

রাজীব বসাক, তুফানগঞ্জ: কয়েকদিন আগেই ট্রাক চলাচলে সবুজ সংকেত দিয়েছে রাজ্য। সবুজ সংকেত পেতেই রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছে ট্রাকগুলি। সেই ট্রাক থামিয়ে চালকরা বিশ্রাম নিচ্ছেন তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বেশ কয়েকটি প্রেট্রোল পাম্প এলাকায়। স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় এই নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবী এলাকায় না দাঁড়িয়ে ফাকা এলাকায় গিয়ে থামুক যাতে কারও কোন সমস্যা না হয়।

উল্লেখ্য, কোচবিহার ফেরত এক শ্রমিকের শরীরে করোনা মিলেছে। এই ঘটনা ট্যুইটারে জানান অসমের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বিষয়টি জানাজানি হতেই কোচবিহার জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন জেলা পার করে তুফানগঞ্জে আসছে ট্রাকগুলি। সেই ট্রাকচালকদের স্যানিটাইজ করা হচ্ছে কি না জানা নেই এলাকাবাসীদের। পাশাপাশি তারাও করোনা আক্রান্ত কি না তারও পরীক্ষা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে যথেষ্ট।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তপন বসাক, উত্তম দাস, আতিকুল হোসেন জানান, ‘প্রতিদিনই এলাকায় নতুন নতুন এলাকা থেকে আসছে ট্রাকগুলি। তাদের শারীরিক পরিস্থিতি জানা নেই। তারা এলাকায় এসে সাধারন মানুষের সাথে মেলা মেশা করছে। বাজারে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। এই ট্রাক চালকদের পেট্রল পাম্পের পাশাপাশি ফাকা এলাকায় দাড়ানোর অনুরোধ করছি। যাতে তারা সামাজিক দূরত্ব মেনে আলাদা থাকে এই বিষয়টিও দেখার আর্জি প্রশাসনকে জানাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বলকান্তি বসাক জানান, ‘লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার স্থানীয় পেট্রল পাম্পে গিয়ে গাড়ির চাকা স্যানিটাইজ করেছি। এছাড়াও পেট্রল কর্মীদের মাক্স বিলি করা হয়েছে। নিজের সাধ্যমত পরিসেবা দিয়েছি। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি।’

বাইরে থেকে আসা ট্রাক চালক জানান, প্রতিটি জেলা পার করার সময় আমাদের থার্মল চেকাপ হচ্ছে। তাছাড়া লালা পরীক্ষা করা হয়নি। এবার আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে বিভিন্ন জেলা ঘুরে মালপত্র পৌছে দিচ্ছি এলাকায়। কারও কোনও সমস্যা হলে আমরা ফাকা জায়গাতেই বসে রাত কাটাবো।’ পেট্রোল পাম্পকর্মীরা জানান, ‘আমরাও জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হয়না। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। বলা যায়না কোন ট্রাকচালক কার সাথে মিশে তারপর পাম্পে আসছে।’