রায়গঞ্জের মাটির প্রদীপ যাচ্ছে ভিন রাজ্যে

322

রায়গঞ্জ: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। তেমনি একটি পার্বণ দীপাবলির আলোর উৎসব। দীপাবলি আসতেই খাওয়া ঘুম ছেড়ে মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জের পালপাড়ার প্রায় শতাধিক পরিবার রং বেরংয়ের মাটির প্রদীপ তৈরিতে এখন ব্যস্ত। এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে নেই চিনা লাইট। তাই মাটির প্রদীপের চাহিদা হবে এবারে যথেষ্ট। সেই আশায় প্রমাদ গুনছে পরিবারগুলি। পরিবারের গৃহবধূ থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও কলেজ পড়ুয়ারা হাত লাগিয়েছে এই কাজে। এখানকার শিল্পীদের তৈরি মাটির প্রদীপ বিহারের পাশাপাশি পাঠানো হচ্ছে মহারাষ্ট্রেও।

মৃৎশিল্পী গোবর্ধন পাল জানান, এবারে শুনেছি মাটির প্রদীপের চাহিদা হবে। কারণ করোনার কারণে চিনা টুনি বাল্ব আসছে না। মহাজনেরা প্রদীপের জন্য বারবার বাড়িতে আসছেন, কিন্তু বন্যার কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় সেভাবে কাজ শুরু করতে পারিনি। তারমধ্যে মাটির দাম বেড়েছে অনেকটাই।

- Advertisement -

তিনি জানান, গত বছরের তৈরি কয়েক বস্তা প্রদীপ ছিল সেগুলি মহাজনদের দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে, এখান থেকে মাটির প্রদীপ চলে গিয়েছে মহারাষ্ট্রে ও বিহারে। মৃৎশিল্পী পূর্ণিমা পাল জানান, আমাদের তো পুঁজি নেই। তাই মহাজনেরা আমাদের মাটি দেয় সেই মাটি দিয়ে প্রদীপ বানিয়ে দিই। ১০০ প্রদীপ বানালে পাই ২৫ টাকা। এবারে অন্যবারের তুলনায় চাহিদা বেশি।

ইতিমধ্যে মহাজনেরা কয়েকবার প্রদীপ নিয়ে গিয়েছেন, কাজের চাপ রয়েছে যথেষ্ট। মৃৎশিল্পী ভারতী পাল জানান, আমরা পরিশ্রম করলেও সেভাবে পারিশ্রমিক পাই না। যারা আমাদের থেকে প্রদীপ কিনে নিয়ে যান তারাই লাভের মুখ দেখেন। পালপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষক বিজয় পাল জানান, আমাদের এখানকার মাটির প্রদীপের চাহিদা ভিন রাজ্যে যথেষ্ট বেশি।

ইতিমধ্যে এখানকার মাটির প্রদীপ বিহার, মহারাষ্ট্র রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আমাদের আবেদন স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহার করুন, কোনও চিনা দ্রব্য নয়। তাহলে এখানকার শিল্পীরা তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। মাটির দ্রব্যাদির ব্যবসায়ী পরিমল পাল জানান, এবারে মাটির প্রদীপের চাহিদা রয়েছে। তবে বাইরে চলে যাচ্ছে বেশির ভাগ। স্থানীয় ভাবে চাহিদা হবে কিনা বুঝতে পারছি না।