চিলাপাতায় বাড়ি ভেঙে ভুট্টা-ধান সাবাড় করল দাঁতাল

চিলাপাতা: শনিবার মাঝরাতে চিলাপাতা বনাঞ্চলের এক দাঁতাল তান্ডব চালাল লোকালয়ে।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সিমলাবাড়ি গ্রামে বেশ কিছু ঘর বাড়ি ভেঙে অর্থকরী ফসল ভুট্টা ও ধান সাবাড় করে দিয়েছে ওই হাতি। করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে ক্ষতি হওয়ায় হাতির আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষ। তাঁরা দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোচ্চার হন। তবে রবিবার সকালে এলাকা পরিদর্শন করেন চিলাপাতার বিট অফিসার সনৎ শূর। তিনি যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

- Advertisement -

শনিবার রাতে বৃষ্টির সময় চিলাপাতার এক দাঁতাল লোকালয়ে বেড়িয়ে পড়ে। বনাঞ্চল থেকে কিছুটা দূরেই পশ্চিম সিমলাবাড়ি গ্রাম। দাঁতালটি এই গ্রামে ঢুকেই তান্ডব শুরু করে। বৃষ্টির জন্য হাতি ঢোকার খবর কোনওভাবেই টের পাননি এলাকার মানুষ। হাতিটি স্থানীয় সুনীল পালের রান্না ঘর ভেঙে এক বস্তা ধান ও ভুট্টা সাবাড় করে দেয়। তারপর ঘরের বেড়া ভেঙে দিলীপ ওরাওঁ এর দুই কুইন্টাল ধান ও এক বস্তা ভুট্টা, রবিউল ইসলামের তিন বস্তা ধান খেয়ে নেয় হাতিটি।

বাড়ির সামনে পলিথিন দিয়ে আব্দুল মোতালেফের ভুট্টা ঢেকে দেওয়া ছিল। আব্দুল সাহেব বলেন, পলিথিন সরিয়ে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকার ভুট্টা সাবাড় করে দিয়েছে। তিনি জানান, বৃষ্টি থাকায় প্রথমে এলাকার মানুষ হাতি ঢোকার খবর পাননি। রাতে বনকর্মীরাও এলাকায় আসেননি। পরে স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে ভোরে হাতিটি জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

এভাবে হঠাৎ করে এলাকায় হাতি ঢুকে পড়ায় পশ্চিম সিমলাবাড়িতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কের পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতি হওয়ায় উদ্বিগ্ন এলাকার মানুষ। দিলিপ ওরাওঁ, সুনীল পাল প্রমুখ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই আর্থিকভাবে গ্রামের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ। লকডাউনের প্রথম দিকে ফসলের দাম মেলেনি। এখন ভুট্টা তোলার কাজ চলছে। এলাকায় ভুট্টাই এখন অর্থকরী ফসল।

এভাবে হাতির হানায় ভুট্টার ক্ষতি হওয়ায় ভেঙে পড়েছেন গ্রামের একাংশ কৃষক। তবে খবর পেয়ে এদিন এলাকায় আসেন চিলাপাতার বিট অফিসার সনৎ শূর। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। বিট অফিসার বলেন, ঘর সেভাবে কারও ভাঙেনি। ঘরের বেড়া ভেঙে ধান, ভুট্টা খেয়েছে। ক্ষতিপূরণের ফর্ম দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।