লুপ্তপ্রায় হাপর বেঁচে রয়েছে রতনদের হাত ধরে

147

মেখলিগঞ্জ: একটা সময় ছিল যখন যে কোনও কামারশালায় গেলেই চোখে পড়তো হাপর। কয়লার আগুন ও হাতুড়ির টুং টাং ছন্দে জীবিকার ছন্দ খুঁজে নিতেন কামার শিল্পীরা। সময় বদলেছে সেই সঙ্গে বদলেছে ব্যবসার যন্ত্রপাতিও। হাপরের জায়গা নিয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। তবুও সীমান্ত শহর মেখলিগঞ্জে লুপ্তপ্রায় হাপর বেঁচে রয়েছে স্থানীয় কামার শিল্পীদের হাত ধরে। মেখলিগঞ্জ পুরসভা এলাকায় হাতে গোনা কয়েকজন কামার রয়েছেন যারা পরিবার সূত্রে এই কাজ করে আসছেন। কামারদের দাবি, আধুনিক যন্ত্রপাতির চেয়ে গতানুগতিক হাপরে কাজ করাই বেশি সুবিধাজনক। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা নেই সেই কারণে হাপরের ওপর ভরসা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা।

কোচবিহার জেলার মহকুমা শহর মেখলিগঞ্জ পুরসভার কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে রোজ মেখলিগঞ্জ শহর সংলগ্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ভোটবাড়ী, নিজতরফ, বাগডোগরা, কুচলিবাড়ীর শতাধিক মানুষ মেখলিগঞ্জে আসেন নিজেদের বিভিন্ন প্রয়োজনে। ফলে মেখলিগঞ্জে জমে উঠতো কামারদের ব্যাবসা। তবে, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা তেমন না হওয়ায় অন্যান্য পেশার মতো কামাররাও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ছন্দে ফেরেনি ব্যবসা। তাই এই মুহূর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির কথা ভাবতে নারাজ প্রত্যেকেই।

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় কামার মধু মন্ডল বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। সময়ের সাথে সাথে পেশার যন্ত্রপাতি পাল্টালেও হাপরে কাজ করা আমার পক্ষে বেশি সুবিধার। তাই কষ্ট হলেও গতানুগতিক হাপরে ভরসা করেই কাজ করে চলেছি।‘ কামার রতন মন্ডল বলেন, ‘এখন লোহার কাজ তেমন নেই। ব্যবসার অবস্থা ভালো না। করোনা পূর্বে দিনে ৪০০ টাকা রোজগার হলেও এখন তা ১৫০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।‘