পাঁচ কিমি রাস্তার পুরোটাই চলাচলের অযোগ্য

343

পলাশবাড়ি: প্রায় পাঁচ কিমি রাস্তার পুরোটাই চলাচলের অযোগ্য। চলতি বর্ষায় গোটা রাস্তার চার জায়গায় সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে ক্ষুব্দ আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজবিল এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, এই রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনও তৎপরতা নেই। রাস্তা সারাইয়ের জন্য জনপ্রতিনিধিরাও উদ্যোগী হচ্ছেন না বলে অভিযোগ। তাই জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার ওপর দিয়ে বাসিন্দাদের চলাফেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাস্তার এই বেহাল অবস্থাকেই ফালাকাটা উপনির্বাচনের আগে ভোটের ইশ্যু করবেন বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, রাস্তাটির ভাঙা অংশে কালভার্ট তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বিস্তারিতভাবে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের নিউরোড থেকে উত্তরদিকে বুড়ি তোর্ষা নদীর পাশ দিয়ে দীর্ঘ একটি মেঠো রাস্তা চলে গিয়েছে ব্যাংডাকি এলাকায়। এই রাস্তার পাশে রয়েছে ঘন জনবসতি। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন জন পঞ্চায়েত সদস্যের এলাকায় পড়েছে গোটা রাস্তাটি। স্থানীয়দের দাবি,প্রায় ১৭ বছর আগে এই পাঁচ কিমি রাস্তার কাজ হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারের আমলে। অভিযোগ, তারপর আর সেভাবে গোটা রাস্তার কাজ হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে অনেক জায়গায় পাকা রাস্তা তৈরি হলেও মেজবিলের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকা হল না কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তবে চলতি বর্ষায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় রাস্তাটি। চার জায়গায় রাস্তাটি ভেঙে যায়। সেই ভাঙা অংশগুলি এখনও সারাই করা হয়নি। তাই বাসিন্দারা এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা কর‍তে পারছেন না। এজন্য তাদেরকে কয়েক কিমি ঘুরপথে পলাশবাড়ি, শিশাগোড় ও ফালাকাটায় যেতে হচ্ছে।

- Advertisement -

এই রাস্তার পাশেই বাড়ি ফালাকাটা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অভিরঞ্জন বর্মনের। তিনি বলেন, ‘গোটা রাস্তা কয়েকটি টুকরো হয়ে গিয়েছে। কারণ, এত জায়গায় রাস্তাটি ভেঙেছে যে চলাফেরা করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাই উপনির্বাচনের আগে এলাকার মানুষ এই বেহাল রাস্তাকেই ভোটের ইশ্যু করবেন।’ স্থানীয় হরিবল দাস, বিমল বর্মন, উমেস সরকার, রমেশ চন্দ্র রায়, সন্তোষ বর্মন প্রমুখরা জানান, এলাকার পঞ্চায়েতরা সবজানা সত্ত্বেও এই রাস্তা সারাইয়ের কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এত জায়গায় রাস্তাটি ভেঙে থাকায় কোনওভাবেই যাতায়াত করা যাচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিরা ভোট চাইতে আসলেই এই রাস্তা সারাইয়ের দাবি তোলা হবে।

মেজবিলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন রায় বলেন, ‘এই রাস্তার ভাঙা অংশে কালভার্ট তৈরি হবে। লাগাতার বৃষ্টির জন্যই কাজ শুরু হয়নি।’ পূর্ব কাঁঠালবাড়ির প্রধান সরোদিনি বর্মন বলেন, ‘ওই রাস্তার বিষয়টি কোন স্তরে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।’ উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘এলাকার পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কাজের প্রস্তাব পাঠানো থাকলে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে ওই রাস্তার কাজ করা হবে।’