অবাধে গাছ চুরি, ধূমপাড়া ফরেস্টের অস্তিত্ব সংকটে

164

নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম : দিনের পর দিন নাকের ডগায় জঙ্গলের গাছ চুরি হলেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় বন দপ্তর। ফলে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (পূর্ব) কুমারগ্রাম রেঞ্জের ধূমপাড়া ফরেস্ট মৌজার ঘন জঙ্গল ক্রমশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। সংকোশ বনবস্তিবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রতিদিন ৩টি বনবস্তি লাগোয়া জঙ্গল থেকে ৫০-৬০টি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কখনও বিট অফিস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে আবার কখনও বনবস্তির পথে থাকা বড় বড় গাছ কেটে বাইরে পাচার করে দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। বনবস্তিবাসীর আশঙ্কা, এভাবে নির্বিচারে জঙ্গল নিধন হলে বনবস্তির অস্তিত্ব রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়বে। এই আশঙ্কার কথা একাধিকবার চিঠি দিয়ে বন দপ্তরের কর্তাদের জানানো হয়েছে। এতকিছুর পরও এই নিয়ে বন দপ্তরের কোনওরকম হেলদোল নেই। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কুমারগ্রাম রেঞ্জ অফিসে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। যদিও বনবস্তিবাসীদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, প্রতিদিন এত গাছ চুরি গেলে জঙ্গল বলে আর কিছু থাকত না। মাঝেমধ্যে এমন সমস্যা হয়। বনকর্মীরা জঙ্গল রক্ষায় রাতদিন কাজ করে চলেছেন।

কাঠ মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে ধূমপাড়া ফরেস্ট মৌজার ৩টি বিট অফিস লাগোয়া জঙ্গল দিনদিন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যথেচ্ছভাবে জঙ্গল ধ্বংসের কারণে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডুয়ার্স ফরেস্ট ভিলেজ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কুমারগ্রাম ব্লক সহ সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক। তিনি বলেন, বনকর্মীদের নজরদারির অভাবেই বক্সার জঙ্গলে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। চালি বেঁধে রায়ডাক এবং সংকোশ নদীপথে প্রতিদিন জঙ্গলের মূল্যবান বড় বড় শতাধিক গাছ বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের সদস্য কাশেম শেখ বলেন, বনকর্মীরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় কর্মহীন যুবক এমনকি স্কুল পড়ুয়ারাও জঙ্গলের গাছ চুরিতে সাহস পাচ্ছে। দিনকে দিন গাছ চোরের সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে চলতে পারে না। একটি গাছ বড় হতে ৪০-৫০ বছর লেগে যায়। অথচ সেটা বন দপ্তরের কর্মীদের দেখাশোনার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের নেতা কিরণ ছেত্রী বলেন, সংকোশ বিটের ১৭ নম্বর কম্পার্টমেন্ট, সেন্ট্রাল রোড, গৌরব ঘাট, কালাপুল সহ রাস্তার পাশে থাকা বড় বড় গাছ বনকর্মীদের নাকের ডগায় কেটে সাফ করে দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।

- Advertisement -

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত অবশ্য বনবস্তিদের ঘাড়েও দায় চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, বাসিন্দারা প্রত্যেকেই জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য। জঙ্গল রক্ষায় তাঁদেরও বড় দাযিত্ব রয়েছে। তাঁরা কি কোনওদিন জঙ্গলের গাছ কাটা রুখতে এগিয়ে এসেছেন? তাঁরা যদি এগিয়ে এসে বন দপ্তরকে সাহায্য করেন তবে এ ধরনের সমস্যার সহজ সমাধান করা যায়। তাঁর কথায়, শুধু বন দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেই হবে না। যৌথ বন পরিচালন কমিটির দায়দাযিত্বও পালন করতে হবে। তাতে সহজেই জঙ্গল  রক্ষা করা যাবে।