বৃষ্টিতে ধসে যাচ্ছে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়ক

269

সুভাষ বর্মনঃ টানা বৃষ্টিতে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়ক নিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে ফালাকাটা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিমির জাতীয় সড়কে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। জল বাড়লেই বেহাল চরতোর্ষা ডাইভারসনের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনও বিপজ্জনকভাবে ছোটো গাড়িগুলি চলাচল করছে। কখনও সোনাপুরের কাছে সাহেবপোঁতার বটতলাতেও সড়কের উপর দিয়ে হাঁটু সমান জল বয়ে যাচ্ছে।

রাস্তার জল আশপাশের বাড়িতে ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এদিকে বৃষ্টির জেরে এই রাস্তার একাধিক জায়গায় রেইনকাট তৈরি হয়েছে। রাস্তার দু’পাশের প্রচুর মাটি ধসে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। মাটি ধসে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থাও। তাই কয়েক হাজার বাসিন্দার কাছে ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মহাসড়ক। তবে জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষ এব্যাপারে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গে এসে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় চার লেনের মহাসড়কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় গত বছর মহাসড়কের কাজ সেভাবে এগোয়নি। এ নিয়ে হাইকোর্টে এখনও বেশ মামলা আটকে রয়েছে। তবে কিছু জায়গায় জটিলতা কেটে যাওয়ায় চলতি বছরে জোরকদমে কাজ শুরু হয়। ফালাকাটার রাইচেঙ্গা, মেজবিল, কাঁঠালবাড়ি, পলাশবাড়ি, সাহেবপোঁতা, সোনাপুর, বাবুরহাট এলাকায় রাস্তার দু’পাশে বালি, মাটি ফেলা এবং বিভিন্ন ব্রিজের পাইলিংয়ের কাজ চলতে থাকে।

তবে লকডাউনের জেরে প্রায় দু’মাস কাজ বন্ধ ছিল। মে মাসের মাঝামাঝিতে ফের কাজ শুরু হলেও এখন বর্ষায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থা। জল-যন্ত্রণা নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি রেইনকাট,মাটি ধসে যাওয়া এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের থাকার ক্যাম্পগুলি জলে ডুবে থাকায় জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।

সম্প্রতি বৃষ্টির জেরে চরতোর্ষা ডাইভারসন বেশ কয়েকবার ভেঙেছে৷ জল কমলে ভাঙা ডাইভারসন সারাই করা হচ্ছে। তাই জল বাড়লেই এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগের যেন অন্ত নেই। এবার সাহেবপোঁতায় এলাকাতেও জল-যন্ত্রণা বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের মাটি ফেলে রাস্তার পাশের নালাগুলি বন্ধ করা হয়। এজন্য বৃষ্টির জল রাস্তার উপর দিয়ে বয়ে স্থানীয়দের বাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে।

এর প্রতিবাদে বাসিন্দারা সম্প্রতি পথ অবরোধও করেন৷ কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। জল বাড়লে এই এলাকাতেও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে রাস্তার অধিকাংশ এলাকাতেই মাটি ধসে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় রেইনকাট তৈরি হয়ে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা রাস্তাটি। এর জেরে কমবেশি দুর্ঘটনাও হচ্ছে।

              এই মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন,’প্রচুর মাটি ধসে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে জমি জট না থাকলে এবং লকডাউনের দু’মাস কাজ বন্ধ না থাকলে এই ক্ষতি কম হত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও হত না।’ জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষের ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর প্রোজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার সমীরণ ঘোষ বলেন,’চরতোর্ষা ডাইভারসনের ওখানে প্রচুর নির্মাণ সামগ্রী রাখা আছে। জল কমলেই ডাইভারসন সারাই করে দেওয়া হয়। সাহেবপোঁতার ওখানে রাস্তার পাশে কিছু ড্রেন করা হবে। কিন্তু এই ড্রেন করতে স্থানীয়রাই বাধা দিচ্ছেন। আর গোটা রাস্তায় যেখানে গর্ত বা রেইনকাট হয়েছে,সেগুলি দ্রুত ঠিক করা হবে।’