পরিবার খোঁজ নেয় না, খোলা আকাশের নীচেই দিন কাটে পূর্ণিমার

273

রায়গঞ্জ: নিষ্ঠুর সন্তানের নির্মম আচরণে মায়ের চার বছর ধরে ঠিকানা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসের বাইরে খোলা আকাশের নীচে। নোংরা ময়লায় ভরা কাপরে ৭০ বছরের বৃদ্ধা পূর্ণিমা দেবীর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের চাতালেই সংসার। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় দিন কাটছে তাঁর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত চার বছর আগে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে ট্রেনে করে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে বাহিন এলাকায় ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় নিজের সন্তান। তারপর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় জখম বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু কেউ খোঁজ নেয় নি আর। তারপর থেকে ওই হাসপাতালের বাইরের চাতালে ঠাঁই হয়েছে। অথচ বিহারের বৈশালী জেলার হাজিপুরে নিজস্ব বাড়ি আছে তাঁর। স্বামী জিতেন্দ্র গুপ্তা সাত বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিহারের পাটনা হাসপাতালে কর্মরত। বিবাহিত দুই মেয়ে রয়েছে।

- Advertisement -

বৃদ্ধা বলেন, ‘স্বামী মরে যাওয়ার পর থেকেই ছেলেরা সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য খুব চাপ দিচ্ছিল। সই করতে রাজি না হওয়ায় মারধর করত। এমনকি খাওয়া বন্ধ করে রাখত। তারপর একদিন ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার নাম করে ট্রেনে তুলে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। অজ্ঞান হয়েছিলাম। পা ভেঙে গিয়েছিল। তারপর কারা যেন এই হাসপাতালে ভর্তি করে। এখন আমি সুস্থ। কিন্তু ছেলেরা খোঁজ নেয় না। হাসপাতালের অনেক দোকানদার আমাকে ভালোবাসে। কেউ কেউ মাঝে মাঝে খাবার দেয়। কিন্তু ছেলেরা চাকরি করেও কোনও সাহায্য করে না। আমার বাড়ি যেতে খুব ইচ্ছা করে।’

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘একটা ছেলে খোঁজ খবর নেয়। খাবার দেয়। সারাদিন হাসপাতালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিষ্কার করে দিন কাটান তিনি।’ উত্তর দিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, ‘ওই বৃদ্ধার একটি স্থায়ী সমাধান করুক জেলা প্রশাসন এটাই আমার আবেদন।’