মেলেনি সরকারি সাহায্য, অসহায় অবস্থায় খুন হওয়া তৃণমূল কর্মীর পরিবার

1357

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: প্রায় আড়াই বছর আগে ভোট দিতে গিয়ে বুথের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তৃণমূল কর্মী অমৃত সাহা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি মারা যাওয়ার পর চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে মৃত অমৃত সাহার পরিবার।

অমৃত সাহার মৃত্যুর পর দলের তরফে মন্ত্রী, নেতারা পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, মেয়ের চাকরি, বিধবাভাতার আশ্বাস দেন। কিন্ত প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেলেও এখনও কোনও সরকারি সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ। এমনকি রায়গঞ্জ থানা থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ না করায় মিলছে না জীবন বীমা নিগমের প্রাপ্য অর্থ। এই অবস্থায় কি করবেন বুঝে উঠতে পারছে না মৃতের অসুস্থ স্ত্রী অর্পিতা সাহা।

- Advertisement -

২০১৮ সালের ১৫ মে পঞ্চায়েত ভোট চলাকালীন রায়গঞ্জ ব্লকের ১০ নম্বর মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীনগর বেলতলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়ে বুথের ভিতরে আচমকা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এলাকার তৃণমূলকর্মী বলে পরিচিত অমৃত সাহা। তিনি রাসবিহারী মার্কেট এলাকার একটি স্টিলের আসবাবপত্রের দোকানে কর্মী ছিলেন। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি দলের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য ভোট দিতে গিয়ে খুন হয়ে যাওয়ায় তৃণমূল নেতা কর্মীদের প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়। মৃতের স্ত্রী অর্পিতা সাহা এবং দুই মেয়ে রিয়া ও অনামিকাকে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরিবারকে সরকারিভাবে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, অর্পিতাদেবীকে বিধবাভাতা এবং ছোট মেয়ে রিয়াকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন নেতারা। কিন্তু মৃতের পরিবারের অভিযোগ, আড়াই বছর হল দলের তরফে দুই লক্ষ টাকা সাহায্য ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শিপ্রা সাহা থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কমল দেবশর্মা কেউই জানেন না কবে মিলবে নেতাদের দেওয়া সরকারি প্রতিশ্রুতি। দেখছি আর দেখব বলেই আড়াই বছর পার হয়ে যাওয়ায় নেতাদের প্রতি আর ভরসা নেই বলে জানায় মৃতের পরিবার।

অর্পিতা সাহা বলেন, ‘খুব কষ্টের মধ্যে আছি। কোনও সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়নি। বিধবাভাতাও পর্যন্ত মেলেনি। কি হবে বুঝে উঠতে পারছি না।’ বড় মেয়ে অনামিকা জানায়, পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, বিধবাভাতা ও বোনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আজ পর্যন্ত কিছুই মেলেনি। ছোট মেয়ে রিয়া জানায়, তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক নেতানেত্রী এসেছিলেন। অনেক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন কারও দেখা নেই। থানা থেকে চার্জশিট না দেওয়ায় বীমার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পরিবারের প্রধান মারা গেলে যে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায় তাও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শিপ্রা সাহার স্বামী তথা এলাকার তৃণমূল নেতা দুলাল সাহা বলেন, ‘পরিবারটি যাতে আর্থিক সাহায্য পায়, সেজন্য দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি। চার্জশিটের ব্যাপারে থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কিন্তু কেন হচ্ছে না বুঝতে পারছি না।’ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কমল দেবনাথ জানান, দলের তরফে দুই লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল। চাকরির ব্যাপারটি দেখছেন দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বরা। অঞ্চলের নেতারা পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিধবাভাতা সিস্টেম অনুযায়ী পাবেন। সরকারিভাবে কোনও সাহায্য পায়নি পরিবারটি। তবে দল বিষয়টি দেখছে।

রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা বলেন, ‘এখনও ইনভেস্টিগেশন শেষ হয়নি। গ্রেপ্তারও বাকি আছে। সেকারণে চার্জশিট দেওয়া যায়নি। তবে আমরা বিষয়টি দেখছি।’