১০০ টাকায় চলে জঙ্গি হামলায় নিহতের পরিবার

155

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : জীবন বড়ই অদ্ভুত। একসময় কেএলও-তে নাম লেখানো যুবকদের মূলস্রোতে ফেরাতে রাজ্য সরকার তাঁদের হোমগার্ডের চাকরি দিতে শুরু করেছে। কেএলও লিংকম্যান সন্দেহে জেলখাটা মানুষ ও সন্দেহভাজন কেএলও জঙ্গিদের আক্রমণে নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এই হামলায় গুরুতর আহতরাও হোমগার্ডের চাকরি পাচ্ছেন। অন্যদিকে, সন্দেহভাজন কেএলও হানায় নিহত ধূপগুড়ি শহরের গোঁসাই শীলের পরিবারের প্রায় না খেয়ে দিন কাটছে। তিনজনের পরিবারের ভরসা বলতে খোলানে সুপারি কেটে প্রতিদিনের ১০০ টাকা। এর বাইরে কিছুটা সরকারি সাহায্য। বহুবার পরিস্থিতি বদলের দাবি জানিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও কাজের কাজ হয়নি।

এত মানুষ চাকরি পেলেও এই পরিবারটির ক্ষেত্রেই অন্যথা হল কেন বলে স্থানীয় কাউন্সিলার অরূপ দের প্রশ্ন। নিজে বহু চেষ্টা চালালেও সমস্যার সমাধান আজও খুঁজে পাননি। এ বিষয়ে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ওই পরিবারের সদস্যরা কোনও আবেদন করেছিলেন কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে জেলা পুলিশ অবশ্যই বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখবে। নিজেও বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে পুলিশ সুপারের আশ্বাস।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি জেলায় ইতিমধ্যেই ১০০ জনেরও বেশি হোমগার্ডের চাকরি পেয়েছেন। এর মধ্যে ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ি থানা এলাকায় সব থেকে বেশি চাকরি হয়েছে।  সরকারি চাকরির এই নিয়োগপত্র পেয়ে সকলেরই দাবি, এবার অন্তত পেটের ভাতটুকু জোগাড় করা সম্ভব হবে। একদিকে যখন প্রাক্তন কেএলও এবং হামলায় হতাহতের পরিবার সরকারি চাকরি পাচ্ছে তখন সন্দেহভাজন কেএলও হানায় নিহত গোঁসাই শীলের পরিবার প্রায় না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। ২০০২ সালের ১৭ অগাস্ট ধূপগুড়ি সিপিএম পার্টি অফিসে হামলায় সিপিএম নেতা গোপাল চাকি সহ বাকি তিনজনের সঙ্গে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন গোঁসাইও। সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু-তে নাম থাকলেও গোঁসাই সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই থাকতেন। তিনি ছিলেন মিষ্টির কারিগর। ব্যক্তিগত কাজে সেদিন সিপিএমের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু। দলীয়স্তরে সিপিএমের তরফে সাহায্য করা হলেও তা দিয়ে খুব বেশিদিন চলেনি এই পরিবারের। ফলে বর্তমানে সুপারি খোলানে দিন হাজিরা করেই পেট চলে নিহত গোঁসাই শীলের স্ত্রী ও মেয়ে। ১৯ বছর আগের ঘটনায় নিহতের পরিবারে এখন সদস্য সংখ্যা তিন। গোঁসাইবাবুর স্ত্রী মায়া শীল এখন পঞ্চাশোর্ধ্ব। সঙ্গে থাকেন স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে রিতা এবং তাঁর বছর ১৫ বয়সি মেয়ে তিনজনের পরিবারের ভরসা বলতে খোলানে সুপারি কেটে রোজকার রোজগার ১০০ টাকা। আর এর বাইরে সামান্য কিছু সরকারি সাহায্য। হোমগার্ডে মেয়ে নিয়োগের কাতর আর্জি জানিয়ে মায়াদেবীর বক্তব্য, যারা মারল তারা সরকারি চাকরি পেল। যাঁরা আহত হলেন তাঁরাও পেলেন। আর আমার স্বামী প্রাণ হারানোয় আমরা নিঃস্ব হলাম। মেয়ের একটা চাকরি হলে অন্তত তিনবেলা ভাতটুকু নিশ্চিত হত আমাদেরও।