হাসিমারা ফেরত পরিবারকে নিয়ে কোচবিহারে চাঞ্চল্য

তুফানগঞ্জ: আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা থেকে এক পরিবার গ্রামে ফেরায় চাঞ্চল্য ছড়াল নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের চামটা গ্রামের ব্যাপারীপাড়ায়। সোমবার সকালে এই ঘটনার খবর গ্রামে আসেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে ওই পরিবারকে কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠানোর দাবি জানান স্থানীয়রা। ওই পরিবারটি হাসিমারায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে। পরিবারের এক সদস্য হাসিমারায় টোটো চালান।

দিনকয়েক আগে ত্রিপুরা থেকে শিলিগুড়ির দিকে যাওয়ার পথে তামিলনাড়ুর এক অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসিমারার বায়ুসেনা ছাউনি সংলগ্ন গুরুদুয়ার এলাকার একটি চা দোকানে কেনাকাটা করেন। পরবর্তীতে ধূপগুড়িতে পৌঁছানোর পর ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকের লালারসের পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুদুয়ার এলাকার ওই ব‍্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের ৫ সদস্যকে হাসিমারা ফাঁড়ির পুলিশ শনিবার রাতে কালচিনির কর্মতীর্থ ভবনের কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠায়।

- Advertisement -

হাসিমারা থেকে এদিন ভোরে টোটো নিয়ে চামটা গ্রামের ব্যাপারীপাড়ায় ফেরে ওই পরিবার। ওই পরিবার এলাকায় এসেই কয়েকজন আত্মীয়ের বাড়িতে যায় এবং স্থানীয় বাজারে গিয়েও কয়েকজনের সাথে মেলামেশা করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দাবি তোলেন, ওই পরিবারকে কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠানো হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুসামা হক ও খচিরন বেওয়া জানান, এদিন ভোরে এলাকায় আসে ওই পরিবার। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে কোনও লোকই এলাকায় আসছেন না। যারা আসছেন তাঁদের কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হচ্ছে। এদিন খবর পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই বাড়িতে এসেছেন। এই অবস্থায় পরিবারটিকে কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠানোর দাবি জানাচ্ছি।

ওই পরিবারের এক সদস্য জানান, তাঁরা এদিন সকালে টোটো নিয়ে হাসিমারা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন। হাসিমারায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে টোটো চালাতেন। বর্তমানে কোন কাজ নেই, সংসার চালাতে অসুবিধা হচ্ছিল। সে  কারণেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা যা নির্দেশ দেবেন তা মেনে চলব বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, কাউন্সিলিং চলছে। বিষয়টি উপরমহলে জানানো হয়েছে। যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার তাঁরাই করবেন। নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শচীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, বাইরে থেকে এক পরিবার ব্যাপারীপাড়ায় এসেছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা এলাকায় এসে ওই পরিবারের সাথে কথা বলছেন। বাইরে যেই এলাকায় আসুন না কেন সবার লালারস পরীক্ষা ও কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্যাপারীপাড়ার পাশেই কোয়ারান্টিন সেন্টার রয়েছে।