হেমতাবাদে বধুহত্যার ঘটনায় পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগে মন্ত্রীর আটকানোর চেষ্টা পরিবারের

346

হেমতাবাদ, ১ ডিসেম্বরঃ হেমতাবাদে বধুহত্যার ঘটনায় পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগে রবিবার মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় আটকে বিক্ষোভের চেষ্টা পরিবারের। দুই ডিএসপির নেতৃত্বে কমব্যাট ফোর্স নামিয়ে অবরোধকারীদের টেনে হিচরে রাস্তা থেকে সরিয়ে শুভেন্দুর কনভয় যাওয়ার পথ তৈরি করে পুলিশ। এদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় হেমতাবাদে। এদিন হেমতাবাদ বিডিও অফিসের সামনে বালুরঘাট সড়ক অবরোধ করে মৃত বধুর পরিবার। এই অবরোধে সামিল হন পিয়ালী মন্ডল নামে এক সমাজকর্মী ও তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন। এদিকে কালিয়াগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচীততে যোগ দিতে এই পথ দিয়ে যাবার কথা ছিল পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তার আগে হটাৎ এই পথ অবরোধে বিপাকে পড়ে পুলিশ। প্রথমে হেমতাবাদ থানার ওসি দিলীপ রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ তৎপর হয় এই অবরোধ তুলতে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এক ডিএসপি। আলোচনার মাধ্যমে চেষ্টা হলেও লাভ হয়নি। বরং ওসির সামনেই ডিএসপিকে শুনতে হয় গতকাল অভিযোগ নেয়নি থানার এক অফিসার। সেই অফিসারের হয়ে কথা বলতে গেলে ওসিকে চ্যালেঞ্জ করেন মহিলা সমাজকর্মী। এই হট্টগোলের মাঝে শুভেন্দুর কনভয় রায়গঞ্জ থেকে কালিয়াগঞ্জের পথে হেমতাবাদে পৌঁছে যায়। কমব্যাট সহ আরোও এক ডিএসপি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের ঠেলে রাস্তা থেকে সড়িয়ে মন্ত্রীর কনভয় যাবার ব্যবস্থা করে।

এরপর পুলিশ আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিতে আহ্বান জানায়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে মৃত বধুর পরিবার অবরোধ তুলে নেয়। সুত্রের খবর, এদিন সন্ধ্যায় বধুহত্যার লিখিত অভিযোগ জমা পরেছে পুলিশের কাছে। জানা গেছে কোহিনুর নেশা (২৮) নামে এক গৃহবধুর দেহ শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে পুলিশ। হেমতাবাদের বালুফারা গ্রামের মোবারক আলীর সঙ্গে ১৪ বছর আগে কোহিনুরের বিয়ে হয়েছিল। তাদের দুই সন্তান আছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে শোবার ঘড়ে জানালায় গামছার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় কোহিনুরের দেহ মেলে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গা ঢাকা দেয় মৃতার স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ফাঁস খুলে দেহ পাঠায় হেমতাবাদ হাসপাতালে। চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করলে নিয়ম মেনে পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা চালু করে।

- Advertisement -

এপর্যন্ত সব ঠিক ছিল। অভিযোগ এরপরে। এদিন পথ অবরোধে সামিল মৃত বধুর পরিবার অভিযোগ তোলে গতকাল পুলিশ তাদের অভিযোগ নিতে চায়নি। অভিযুক্তদের আড়াল করছে পুলিশ। এদিন ঘটনাস্থলে আলোচনার সময় এই অভিযোগ মানতে চায়নি হেমতাবাদ থানার ওসি।