দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে মৃত শিশুকে বিক্রি করলেন বাবা!

531
ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: দুর্ঘটনায় মৃত দুধের শিশুকে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করলেন বাবা! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও রবিবার রাতে এমনই ঘটনা ঘটেছে রায়গঞ্জে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও মৃত শিশুর বাবার বক্তব্য, ‘দুর্ঘটনায় ছেলে মারা গিয়েছে। মামলা করে কী হবে? তাই অভিযুক্ত বাইক চালকের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে মীমাংসা করে ফেললাম।’ তবে মীমাংসার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন মৃত শিশুর মা। তবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের তরফে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস মিলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে ইটাহার থানার ভূপালপুর গ্রামের এক বছর বয়সি ওই শিশুটিকে নিয়ে তার মা-বাবা বাইকে চেপে হেমতাবাদের গুটিন গ্রামে একটি বিয়েতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ইটাহার থানার রাজবাড়ি গেট এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের ধাক্কা মারলে মায়ের কোলে থাকা শিশুটি ছিটকে জাতীয় সড়কের ধারে নির্মাণসামগ্রীর উপরে গিয়ে পড়ে। তার বুকের ভেতরে পাথর ঢুকে যায়।

- Advertisement -

স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। স্বামী-স্ত্রী’কে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায়, তাঁকে তড়িঘড়ি মেডিকেল কলেজের শল্য চিকিৎসা বিভাগে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ চিকিৎসা চলার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

যদিও শিশুটিকে অ্যাম্বুল্যান্সে মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে ইটাহার পার হতেই তার মৃত্যু হয়। তবে শিশুটির বাবা এবং স্থানীয় মাতব্বরদের বাধায় দেহের ময়নাতদন্ত করা যায়নি বলে অ্যাম্বুলেন্স চালক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। যার বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে পরবর্তীতে তাঁর হাতেই দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিশুটির মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ব্যক্তি আবার এলাকার প্রভাবশালী ও স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক বলে জানা গিয়েছে।

কেন শিশুটির দেহের ময়নাতদন্ত করা হল না, এর পিছনে কী কারণ রয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছেন জেলা পুলিশের কর্তারা।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক সঞ্জয় শেঠ বলেন, ‘ওই শিশুটিকে গুরুতর জখম অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। পরে জানতে পারি পরিবারের লোকেরা মাতব্বরি করে তাকে মালদা মেডিকেল কলেজের দিকে নিয়ে গিয়েছে।’