সাদরি সিনেমার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে ডুয়ার্সের চলচ্চিত্র মহল

199

মালবাজার: মরা গাঙ্গে জল আসবে কিনা? তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে, সাদরি সিনেমার মাধ্যমেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে মালবাজার তথা ডুয়ার্স। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মাল শহরের সাধনা সিনেমা হলে সাদরি সিনেমা টেম্পারের উদ্বোধন হল। পদ্মশ্রী তথা সমাজসেবী করিমুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত সকলেই আশা রাখছেন সিনেমাটি সাড়া ফেলবে।

অতিমারীর প্রভাবে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ডুয়ার্স তথা মালবাজারের সিনেমা হলগুলো কার্যত ধুঁকছে। এরমধ্যে গত প্রায় এক বছর যাবৎ সিনেমা হলগুলোর পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। করোনা পর্বে ওয়েব সিরিজ ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যম জনপ্রিয় হয়েছে। সেখানে প্রথাগতভাবে সিনেমা দেখতে সরাসরি সিনেমা হলগুলোতে সমাগম কতটা হবে তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে। মাল শহরে দুটি সিনেমা হলের মধ্যে পম্পা সিনেমা হলটি এখনও বন্ধ। চলতি মাসের ৫ তারিখে সাধনা সিনেমা হলে একটি দক্ষিণ ভারতের ডাব করা সিনেমা চললেও সেরকম সাড়া মেলেনি। এদিন সাদরি সিনেমা টেম্পারের প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী করিমুল হক, সিনেমার সাথে জড়িত কলাকুশলী এবং বিশিষ্টজনেরা। সকলেরই আশা সাদরি সিনেমাটির মধ্যে দিয়ে ডুয়ার্সে সিনেমা হলগুলোর কিছু হলেও আয় হবে।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে পদ্মশ্রী করিমুল হক জানান, ডুয়ার্সে অনেক প্রতিভা আছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিভাদের তুলে ধরা সম্ভব। সাদরি ভাষায় তৈরি সিনেমা অন্য ভাষায় ডাবিং করে অন্য রাজ্যে প্রচার করা দরকার। টলিউড টিভি এন্ড সিনে মেকার্স টেকনিশিয়ান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অরজিৎ লোহরাও এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে করোনা পর্ব পার করেছি। আমরা আর ফিরে তাকাতে চাই না। ইতিমধ্যে আসামে এই সিনেমাটি রিলিজ করেছে। মাল শহরেও রিলিজ হল। ডুয়ার্সের অন্যপ্রান্তে হ্যামিল্টনগঞ্জেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে।’ সিনেমার পরিচালক ডি বিপিন বলেন, ‘আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। আমাদের এখানেও প্রচুর প্রতিভাবান শিল্পী এবং কলাকুশলীরা আছেন। এ ধরনের সিনেমার মাধ্যমে তারা উৎসাহ পাবেন।’ সাধনা হলের ম্যানেজার ইন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, ‘এখনও জানি না ভবিষ্যতে কি হবে। তবুও আশা করছি আবার দর্শকদের উপস্থিতি হবে।’সিনেমা হলের পাশে ছোট দোকানের মালিক জানান, গত ১৫ বছর ধরে এখানে দোকান করছি। এই সিনেমাতে ডুয়ার্সের মাটির টান আছে। আশা করছি এই সিনেমার মাধ্যমেই আবার দর্শক আসবে।