৮৫ শতাংশ নম্বর পেল বাউরি পাড়ার প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী খুশি

208

আসানসোল: মাধ্যমিকে ৮৫ শতাংশ নম্বর। আর সেই নম্বরে খুশির বার্তা নিয়ে এল খুশি বাউরি। খুশি তার ডাকনাম। এই নামে তাকে সবাই চেনে। তার স্কুলের নাম পিয়া। খুশির মাধ্যমিক রেজাল্টে খুশি কুলটির মিঠানির কামালপুর বাউরি পাড়ার বাসিন্দারা। কারণ এই পাড়াতেই সেই প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তীর্ণ।

এই খুশির বাবা ঝুপল বাউরি পেশায় দিন মজুর। তিনি টুকিটাকি ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান। মা জিতু বাউরি গৃহবধূ। বাবা মা দুজনেই হাইস্কুলের গণ্ডি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। তবু মেয়ে পিয়া ওরফে খুশি মাধ্যমিকে ৫৮৬ নম্বর নিয়ে পাশ করায় তারা খুব আনন্দিত। বাবা মায়ের প্রবল উৎসাহ, আর সঙ্গে কিছু করে দেখানোর একটা জেদে ৫ টি বিষয়ে লেটার নম্বর পেয়েছে পিয়া। তার মধ্যে অঙ্কে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৩।

- Advertisement -

আসানসোলের কুলটির মিঠানি হাইস্কুলের পড়ুয়া পিয়াকে নিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের যে আশা ছিল তা সে পূরণ করেছে। বাড়ির আর্থিক অস্বচ্ছলতা তার পড়াশোনায় বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। শুধু পড়াশোনা নয়, কবিতা ও ছবি আঁকাতেও সুনাম রয়েছে পিয়ার। ভবিষ্যতে পিয়া মেডিক্যাল নিয়ে পড়শোনা করতে চায়। নিটে বসতে ইচ্ছুক বলে জানায় সে। তার জন্য কোচিংয়ের প্রয়োজন। কিন্তু সে কোচিংয়ের খরচ তো অনেক। তাই তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে চিন্তায় রয়েছে পিয়ার পরিবার।

এই সাফল্য পাওয়ার পরে পিয়ার দাবি, ৮ থেকে ৯ ঘন্টা নিয়ম করে পড়াশোনা করাতেই এই সফলতা এসেছে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাহায্যও সে পেয়েছে। মিঠানি স্কুলেই বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পড়বে পিয়া। পিয়ার বাবা ও মা বলেন, বিজ্ঞানের জন্য তো এবার গৃহ শিক্ষকের প্রয়োজন। খরচও অনেক রয়েছে। এদিকে কোভিড ১৯ পরিস্থিতির জন্য এখন বেশিরভাগ টিউশন বা কোচিং চলছে অনলাইনে। এই পরিস্থিতি চলবে কতদিন ধরে, তা কেউ জানেনা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা রাখতে প্রয়োজন একটি ভালো অ্যানড্রোয়েড ফোন আর তার সঙ্গে ইন্টারনেটের। ফলে খরচ অনেকটাই বাড়ল। তাই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পিয়ার বাবা ও মায়ের কপালে। তবুও তারা আশা ছাড়ছেন না।