জিডিপির ৮ শতাংশ ছাড়াতে পারে আর্থিক ঘাটতি

299

নয়াদিল্লি : চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) মোট জাতীয় উত্পাদন (জিডিপি) কমেছে ২৩.৯ শতাংশ। সমীক্ষক সংস্থাগুলির পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে আর্থিক বৃদ্ধির এই নিম্নমুখী প্রবণতা। গত আড়াই দশকে জিডিপির হার শূন্যের নীচে নামার ঘটনা নজিরবিহীন। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জিডিপি শূন্যের নীচে চলে যাওয়া বিপুল আর্থিক সংকোচনের ইঙ্গিত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে, পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাবে, তেমনই সরকারের রাজস্ব আদায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। রাজস্ব আদায় কমলে কেন্দ্রের পক্ষে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। সমীক্ষক সংস্থা কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইকুয়িটিজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও কর আদায় কমার ফলে বাজেট ঘাটতি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চলতি অর্থবর্ষে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৮ শতাংশের বেশি হতে পারে।

কোটাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি অন্তত ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ কমিয়ে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না করে তাহলে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ ৮ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ হতে পারে। গত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত লক্ষ্যের ৩৫ শতাংশ কর আদায় হয়েছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল ২০২০-২১ অর্থবর্ষে সরকার জিএসটি খাতে ১৩.৪ লক্ষ কোটি টাকা আয় হবে বলে হিসাব কষেছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ৫ মাসে মাত্র ৩.১ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ও তার জেরে লকডাউনের কারণে রাজস্ব আদায় কমেছে। তবে ভারতে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে পরবর্তী ৭ মাসে ১০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা কঠিন হবে। যদিও ধীরে ধীরে হলেও আগামী মাসগুলিতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে কোটাক ইন্সটিটিউশনাল ইকুয়িটিজের রিপোর্টে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।

- Advertisement -

একদিকে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে আর্থিক সংকোচন, দুই ইশ্যুকে সামনে রেখে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। প্রতিদিনই কোনও না কোনও বিষয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করছেন রাহুল গান্ধি, পি চিদম্বরমের মতো কংগ্রেস নেতারা। বুধবার রাহুল মোদি মেড ডিজাস্টার্স (মোদির তৈরি বিপর্যয়) শিরোনামে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। টুইটারে পোস্ট করা তালিকায় জিডিপির রেকর্ড পতন, গত ৪৫ বছরে সর্বাধিক বেকারত্ব,১২ কোটি কর্মহীন, রাজ্যগুলির জিএসটি ক্ষতিপূরণ বকেয়া রাখা, দৈনিক সংক্রমণে বিশ্ব তালিকায় একনম্বরে আসা ও সীমান্ত সংঘাতের কথা বলা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন করোনা সংকটকে ইশ্বরের মার বলে উল্লেখ করেছিলেন। অর্থমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ম্যানমেড ডিজাস্টারের কথা বলেন চিদম্বরম। এদিন চিদম্বরমের কথার  রেশ ধরেই মোদি সরকারকে নিশানা করেন রাহুল।