রাজগঞ্জ : ফুলবাড়িতে এশিয়ান হাইওয়ে ২এর ফুটপাথ চলে য়াচ্ছে ব্যবসায়ীদের দখলে। এর ফলে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। উচ্ছেদ হটাতে মঙ্গলবার ও বুধবার দুদিন  অভিয়ান চালায় জলপাই মোড় ট্রাফিক গার্ড। তবে ট্রাফিক গার্ড ও পুলিশের তরফে মাঝেমধ্যে ওই ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা স্থায়ীভাবে সরছেন না বলে অভিযোগ। ফলে ফুলবাড়ি মোড়ে নিত্যদিন যানজট লেগেই থাকছে। বিশেষ করে হাটবারের দিন সোম ও শুক্রবার মহাসড়কের চার লেনের একটি লেন কার্যত বাইক পার্কিং জোন হয়ে যায়। হাটে আসা ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা মহাসড়কে বাইক রেখে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। প্রতিদিনের যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি জাতীয় সড়কে ফুলবাড়ি মোড় একটি জনবহুল এলাকা। পাশেই ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে বহির্বাণিজ্যের স্থলবন্দর। এছাড়া রয়েছে অভিবাসন চেকপোস্ট। ওই সীমান্ত দিয়ে ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বহির্বাণিজ্যের পথ। প্রতিদিন কয়েকশো মালবাহী ট্রাক সীমান্তের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া শিলিগুড়ি -জলপাইগুড়ি জাতীয় সড়ক একটি ব্যস্ততম রাস্তা। ফলে ফুলবাড়ি মোড়ে সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। বাসিন্দারা জানান, নেপাল সীমান্ত থেকে শিলিগুড়ি ছুঁয়ে ফুলবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে ২ তৈরি হওয়ায় যানজট কমবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু যানজট আরও বেড়ে গিয়েছে। ফুটপাথ ব্যবসায়ীরা মহাসড়কে উঠে পড়ছেন। শুধু ফুলবাড়ি মোড় নয়, এলাকার বাইপাস মোড়, ব্যাটালিয়ন মোড়, আমাইদিঘিতেও ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা ও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় পথচলতি ও স্থানীয় বাসিন্দারা নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। পুলিশকে মাঝেমধ্যে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামতে দেখা গেলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা বা দুই-একদিনের মধ্যে আগের অবস্থা হয়ে যাচ্ছে। পুলিশের তরফে ঘটা করে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হলেও যানজট নিরসনে কড়া পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার জলপাই মোড় ট্রাফিক গার্ড এবং নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ ফুটপাথ থেকে দোকানপাট সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়ে গেলেও কাজের কাজ যে কিছুই হবে না তা স্থানীয়রা জানেন। ফুটপাথ দখল ও যানজটের কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দিলীপ রায় বলেন, ফুলবাড়িতে যানজট একটা বড়ো সমস্যা। অনেকবার ট্রাফিক গার্ড ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। আমরাও চাই ফুলবাড়ি যানজট মুক্ত করা হোক। একই কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সদস্য দেবাশিস প্রামাণিক। তিনি বলেন, হাটবারের দোকান একেবারে এশিয়ান হাইওয়ে ২তে চলে আসে এবং বাইক ও টোটো রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। খুব শীঘ্রই সার্ভিস রোড তৈরি হওয়া দরকার। ট্রাফিক গার্ডকে বলেছি সবসময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হোক। প্রয়োজনে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ট্রাফিক বুথ করে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জলপাই মোড় ট্রাফিক গার্ডের ওসি ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রায় প্রতিদিন ফুলবাড়িতে অভিযান করি। যারা ট্রাফিক আইন ভাঙছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।