বুথে বন্যপ্রাণীর হামলা ঠেকাতে বাড়তি দায়িত্ব বন দপ্তরকে

72

আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ারে বনাঞ্চল এলাকার ১১৮টি পোলিং স্টেশনে বন্যপ্রাণীর হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তার বাড়তি দায়িত্ব সামলাবেন বন দপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকরা। এ ব্যাপারে একটি বৈঠকও হয়েছে বন দপ্তর ও জেলা নির্বাচন দপ্তরের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সে ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করেছে বন দপ্তর। ভোটের কাজে বুথে যাওয়া নিরাপত্তারক্ষী, পোলিং পার্সনদের বন্যপ্রাণীর হামলা থেকে রক্ষা করতে ও বনাঞ্চলের অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা এড়াতেই ফরেস্ট গার্ডদের বেশ কিছু পোলিং স্টেশন সহ হাতির করিডর এলাকায় নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে নির্বাচনের কাজে এবারে কোথাও কুনকি হাতিদের কাজে লাগানো হবে না।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর বনাঞ্চলের মধ্যে থাকা চারটি বুথে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না। সেই পোলিং স্টেশনগুলিতে বন দপ্তরের ওয্যারলেস (আরটি) নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো হবে। আরটি মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জেলা নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা সবসময় ওই মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন এলাকার বুথগুলিতে ভোটগ্রহণের খবরাখবর জানতে পারবেন।

- Advertisement -

বক্সা টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডাইরেক্টর (পশ্চিম) পারভিন কাশোয়ান বলেন, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে এলিফ্যান্ট করিডরে ভোটের আগের দিন থেকেই বিশেষ নজরদারি চালাবেন বনকর্মীরা। আলিপুরদুয়ারের বনাঞ্চল এলাকায় ১১৮টি পোলিং স্টেশনে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া ও তাঁদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভোটগ্রহণ পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বনকর্মীরা তাঁদের সহযোগিতা করবেন। এ ছাড়া হাতি সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আনাগোনা হয় এমন বুথগুলিতেও বাড়তি নজরদারি চালাবে বন দপ্তর।

প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা এলাকার সর্বত্রই কমবেশি বনাঞ্চল রয়েছে। চা বাগান ও বনাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায় বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সহ হাতির আনাগোনা রয়েছে। হাতি ছাড়াও চিতাবাঘ, বিষাক্ত সাপ, বাইসন, ভল্লুক সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বনবস্তি এলাকায় আনাগোনা লেগেই থাকে। হাতির হানায় মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্কুলবাড়ি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বনবস্তির বাসিন্দারাও অনেক সময় হাতির হামলায় জখম হন। এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন সময় খবর পেয়ে বনকর্মীরা সার্চলাইট দিয়ে পটকা ফাটিয়ে ও অন্যান্য কৌশল অবলম্বন করে বসতি এলাকা থেকে হাতির পালকে গভীর জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আগামী ১০ এপ্রিল আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি বিধানসভা এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে। ৯ তারিখ রাতের মধ্যেই ভোটকর্মীরা ও নিরাপত্তারক্ষীরা বুথে বুথে পৌঁছে যাবেন। রাতের বেলা ভোটকর্মীরা বুথে পৌঁছানোর পর বন্যপ্রাণীর আতঙ্কে তাঁরা যাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়েন, সেজন্য বনকর্মীরা তাঁদের সাহস জোগাবেন। হাতি, বাইসন, চিতাবাঘ সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আনাগোনার সম্ভাবনা রয়েছে এমন বুথগুলিতে রাতের বেলা প্রয়োজনে বনকর্মীরা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালাবেন। দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বনাঞ্চলে রাস্তাগুলিতে ফরেস্ট গার্ডরা ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন বিশেষ টহলদারি চালাবেন। ভোটগ্রহণের সময় যদি কোনওভাবে পোলিং স্টেশনে বন্যপ্রাণী চলে আসে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন ফরেস্ট গার্ডরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা এলাকার ১,৭০৬টি পোলিং স্টেশনে ভোটগ্রহণ হবে। এরমধ্যে ১১৮টি পোলিং স্টেশন রয়েছে বনাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায়। জেলার সমস্ত বুথে ভোটগ্রহণের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা ছাড়াও কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার সরকারি কর্মচারীদেরও ভোটগ্রহণের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

ভোটের কাজে নিযুক্ত কর্মীদের অনেকেরই বনাঞ্চল এলাকায় রাত কাটানো ও ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে তাঁদের আতঙ্কিত হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। ভোটকর্মীদের সাহস জোগাতে ও বন্যপ্রাণীদের পোলিং স্টেশন এলাকা থেকে হটানোর কাজে অভিজ্ঞ বনকর্মীদের তাই বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।