বন্যপ্রাণী শিকার রুখতে কড়া পদক্ষেপ বন দপ্তরের

120

গয়েরকাটা: হোলি আসতেই জঙ্গলের বন্যপ্রানীদের হত্যা করে মাংস খাওয়ার প্রবনতা প্রতি বছরই জঙ্গল লাগোয়া অধিবাসীদের এবং বনবস্তিবাসীদের একাংশের মধ্যে দেখা যায়। সারা বছর ডুয়ার্সের জঙ্গল জুড়ে এই বন্যপ্রাণী শিকার রুখতে বন দপ্তরের তরফে নজরদারি ও প্রচার চালানো হলেও হোলি আসতেই বাড়তি নজরদারি দেখা গেল বনকর্মীদের মধ্যে। শনি ও রবিবার জলপাইগুড়ির মোরাঘাট ও নাথুয়া রেঞ্জের বনাধিকারিক রাজকুমার পালের উদ্যোগে দুই রেঞ্জের অধিনস্থ জঙ্গলে কড়া নজরদারি চালানো হয়। পরবর্তীতে যাতে কোনওভাবেই জঙ্গলে বনবস্তিবাসিরা প্রবেশ করতে না পারে এবং প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি বনবিভাগ সূত্রে খবর, শিকার রুখতে হোলি পর্যন্ত জেলা জুড়ে প্রতিটি রেঞ্জ অফিসকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণী প্রেমী ও পরিবেশ বিদ মিন্টু চৌধুরী বলেন, ‘শিকার উৎসব একটি সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট উৎসব। তাদের রীতি অনুযায়ী তারা করে থাকেন। তবে পূর্বজরা করলেও এখন সেটা আইনত নিষিদ্ধ ও অপরাধ। বন্যপ্রাণী আইনের সংশোধন হওয়ার পর থেকেই বন্যপ্রাণী শিকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তাই সাধারণ মানুষকে যেমন উদ্যোগ নিতে হবে বন দপ্তরকেও কড়া হতে হবে। তেমনি জঙ্গলেও নজরদারি বাড়াতে হবে। আমাদের সেচ্ছাসেবী সংঘঠন ডুয়ার্স স্নেক লাভার্স অর্গানাইজেশনের তরফে চা বাগান অধ্যুষিত এবং বনবস্তি এলাকাগুলোতে প্রচার চালানো হচ্ছে।’

- Advertisement -

ডুয়ার্সের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আরন্যকের সম্পাদক বিনায়ক বসু বলেন, ‘আমরা বনবস্তি এবং চা বাগান এলাকাগুলোতে প্রচার চালাচ্ছি যাতে শিকার উৎসব থেকে বিরত থাকেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। বনদপ্তর কেউ আরও উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে শিকার উৎসব রুখতে।’

জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ডিএফও মৃদুল কুমার বলেন, ‘আমরা সারাবছর বন্যপ্রানী হত্যা রুখতে ভূমিকা পালন করে আসি। বর্তমানে শিকার উৎসবের প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে। তবুও আগাম সতর্কতা হিসেবে জেলা জুড়ে প্রতিটি রেঞ্জকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। বনের টাওয়ার গুলি থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং বন দপ্তর ও যৌথ বন পরিচালন সমিতির যৌথ উদ্যোগে জঙ্গল লাগোয়া এলাকা গুলিতে প্রচার চালানো হবে।’