চিলেকোঠায় আশ্রয় নেওয়া ৫ শাবকসহ মা গন্ধগোকুলকে উদ্ধার করল বন দপ্তর

343

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নগরায়নের যাঁতাকলে পড়ে বিলুপ্ত হতে বসেছে অরণ্য। সবুজের আশ্রয় না পেয়ে গৃহস্থ বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিল ৫টি ছানা সহ একটি মা গন্ধগোকুল। শহর বর্ধমানের কালীবাজার এলাকা নিবাসী পশুপ্রেমী ভাস্কর চৌধুরীর বাড়িতেই ৫ শাবকদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল প্রাণীটি। রবিবার সেগুলিকে উদ্ধার করল বন দপ্তর। জানা গিয়েছে, বিপন্ন এই প্রাণীগুলিকে বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর।

জানা গিয়েছে, গন্ধগোকুল প্রাণীটি শাবকদের নিয়ে চিলেকোঠায় আশ্রয় নিয়েছে দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক ভাস্কর চৌধুরী। পরে প্রাণীগুলিকে খাবার দেওয়া শুরু করেন তিনি। মা গন্ধগোকুলটিও পাড়ায় ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে এনে তাঁর শাবকদের খাওয়াতেন। গন্ধগোকুল শাবকগুলি একটু বড় হয়ে গিয়েছে দেখে ভাস্করবাবু মনে করেন কোনওভাবেই হোক এই বিপন্ন প্রাণীগুলিকে জঙ্গলে ছেঁড়ে দেওয়া দরকার।

- Advertisement -

দেরি না করে রবিবার দুপুরে ভাস্করবাবু বর্ধমান বন দপ্তরে যোগাযোগ করে প্রাণীগুলির বিষয়ে জানান। এরপরই বনদপ্তরের লোকজন পৌঁছে যান ভাস্করবাবুর বাড়িতে। ঘন্টা দু’য়েকের প্রচেষ্টায় বাড়ির ৩ তলার চিলেকোঠায় একটি পেটির মধ্যে আশ্রয় নিয়ে থাকা ৫টি গন্ধগোকুল শাবক সহ মাকে উদ্ধার করে বন দপ্তর। তাঁরা জানান, পাঁচটি শাবক সহ ৬টি গন্ধগোকুল সুস্থ রয়েছে বলেই দেখে মনে হচ্ছে। তবুও তাদের শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। বিপন্ন এই প্রাণীগুলির কোনও শারীরিক সমস্যা না থাকলে রমনাবাগান অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিপন্ন প্রাণীগুলি জঙ্গলে আবৃত স্থানে থাকতে পারবে জেনে খুশি ভাস্করবাবু ও তাঁর পরিবার।