পঞ্চায়েতের উপসমিতি গঠন স্থগিত ঘিরে চাঞ্চল্য

289

সামসী: বুধবার ছিল রতুয়া-১ ব্লকের সামসী জিপির উপসমিতি গঠনের দিন। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে ওই পঞ্চায়েতের উপসমিতি গঠন স্থগিত হয়ে গেল। এদিন উপসমিতি গঠন না হওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ রতুয়ার নিজেদের দলের বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। বুধবার সামসীতে রীতিমতো এক সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের ঘাড়ে দোষ চাপানো হয় এরজন্য। এনিয়ে সামসীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এদিন সামসীতে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাসকদলের রতুয়া-১ ব্লক সভাপতি ফজলুল হক, দলের জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ হেসামুদ্দিন, সামসী পঞ্চায়েত প্রধান শ্রনকুমার দাস আরো অনেকে।

- Advertisement -

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কোনো নাম না করেই সামসী পঞ্চায়েতে উপসমিতি গঠন না হওয়ার জন্য সরাসরি বিধায়কের ঘাড়ে দোষ চাপান দলের ব্লক সভাপতি ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় প্রশাসনকে চাপ দিয়ে একাজ করেছেন। বিধায়ক মোটেই ঠিক কাজ করেননি।‘

ফজলুল হক জানান, তাদের কাছে খবর আছে সামসীর উপসমিতি ভেস্তে দেওয়ার জন্য ডিএম সাহেবের কাছেও কয়েকবার গিয়েছেন। উপসমিতি গঠন না হওয়ায় পঞ্চায়েতের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ আটকে আছে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য দলের হাই কমান্ড ও ডিএম সাহেবের নিকট দ্বারস্থ হবেন দলের একাংশ বলে এদিন জানান দলের জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ। পাশাপাশি, দলের জেলা সম্পাদক মহম্মদ হেসামুদ্দিন বলেন, ‘পঞ্চায়েত আইন মেনে পুনরায় সামসী জিপির উপসমিতি গঠিত হোক।‘

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, ‘গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ যে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।‘

তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সূত্রে খবর, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০টি আসনের ১২টি দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি ৮টি আসনের ৫টিতে কংগ্রেস ও ৩টিতে বিজেপি জয়লাভ করে। পঞ্চায়েত সমিতির তিনজন সদস্য তৃণমূলের হওয়ায় তাঁরা ওই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির সদস্য। বিজেপির একজন সদস্য মারা যাওয়ায় তাদের সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে দুই। কিন্তু সামসী অঞ্চলের প্রধান স্বজনপোষণ ও নিজের মর্জি মাফিক বোর্ড পরিচালনা করার জন্য কংগ্রেসের দলনেত্রী সহ বিজেপির দুই সদস্যের সহায়তায় বিডিওর কাছে তাঁর নিজের দলের চারজন সঞ্চালকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করে গত ২৩ নভেম্বর।

যদিও প্রধান শ্রবনকুমার দাস নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই অনাস্থা ডাকা হয়েছিল। সে মোতাবেক ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে পঞ্চায়েতে ছিল তলবি সভা। কিন্তু অভিযোগ, ওইদিন প্রিসাইডিং অফিসার নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ সকাল ১১টার সময় আসার কথা থাকলেও পঞ্চায়েতে এসে পৌঁছান বিকেল সাড়ে তিনটার পর। অর্থাৎ তলবি সভার শেষ সময় ছিল সাড়ে তিনটা। কিন্তু সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তলবি সভা শুরু হয় বিকেল চারটা নাগাদ। অন্যদিকে, ১৪ ডিসেম্বর তলবি সভা দেরিতে শুরু হওয়ায় রতুয়া-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফজলুল হক রতুয়া ব্লকের বিডিও সারোয়ার আলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন।

যদিও রতুয়া-১ এর বিডিও সারোয়ার আলির বক্তব্য, অফিস থেকে নিয়ম মেনে সময়মতোই বেরিয়েছিলেন প্রিসাইডিং অফিসার।কিন্তু রাস্তায় পথ অবরোধের কারণে প্রিসাইডিং অফিসার পঞ্চায়েতে সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি।বিষয়টি এসডিও সাহেব ও পুলিশকে জানানো হয়েছিল।তবে ফজলুল সাহেবের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিডিও সারওয়ার আলি।

এনিয়ে মালদার জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, ‘স্থানীয় থানা থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স দিতে রাজি না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে।তবে পরবর্তী দিনক্ষণ পরে জানানো হবে।‘