পথ দুর্ঘটনায় নিহত কনস্টেবল তাপস বর্মনের শেষকৃত্য সম্পন্ন

3459

তুফানগঞ্জ: শনিবার বেলা তখন সাড়ে তিনটে। সূর্য তখন মধ্য আকাশের থেকে সরে গিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে। বাড়ির সামনে অসংখ্য মানুষজনের ভিড়। সবাই যেন অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এমন সময় গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ির কনভয় এসে পৌঁছাল অন্দরান-ফুলবাড়ী ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের যমেরডাঙ্গার সারদাপল্লী গ্রামে। গাড়ি থেকে নামানো হল তাপস বর্মনের কফিনবন্দি নিথর দেহ।

তাপসবাবুর কফিনবন্দি নিথর দেহ বাড়ির উঠানের মন্দিরের সামনে রাখতে না রাখতেই কান্নার রোলে ভেসে উঠল এলাকা। গ্রামের প্ৰিয় যুবককে আর কোনও দিন দেখতে পাবেন না বলে শুধু বাড়ির লোকজন বা আত্মীয়স্বজনরাই নন, গ্রামের মানুষজনকেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিন কিছু সময়ের জন্য তাপস বর্মনের নিথর দেহ কফিনবন্দি অবস্থায় বাড়ির উঠানে রেখে ধর্মীয় নিয়মকানুন পালন করে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে তুফানগঞ্জ শহরের রায়ডাক নদীর চরের শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।

- Advertisement -

এদিকে এদিন তাপস বর্মনের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পিসেমশাই ভবেন বর্মন এদিন বেলা একটা  নাগাদ শোকে মারা যান। তাপস বর্মনের মৃতদেহ শ্মশানে এসে পৌঁছানোর আগেই তাঁর পিসেমশাইয়ের মরদেহ রায়ডাক নদীর চরের শ্মশানে নিয়ে এসে দাহ করা হয়। ১২ ব্যাটালিয়নের পুলিশ ও তুফানগঞ্জ থানার পুলিশের ঘেরাপটে তাপস বর্মনের শেষকৃত্য সম্পূর্ণ হয়। ভবেন বর্মনের খুব প্ৰিয় ভাইপো ছিলেন তাপস বর্মন। একই সঙ্গে একই গ্রামের দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধরণীকান্ত বর্মন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ হুগলির দাদপুর থানার হোদলা সেতু এলাকায় এক পথ দুর্ঘটনায় ১২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার দেবশ্রী চ্যাটার্জী, তাঁর দেহরক্ষী তাপস বর্মন ও গাড়ির চালক মনোজ সাহার মৃত্যু হয়েছিল।