ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলছে উইনার্সের মেয়েরা

90

শুভময় সান্যাল, শিলিগুড়ি : মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ সদ্য সদ্য ভেবেছে। কিন্তু দুই বছর ধরে একই কাজ করে যাচ্ছে উইনার্স ফুটবল কোচিং সেন্টার। ফুটবলের মতো বডি কনট্যাক্ট গেমে একসঙ্গে ছেলেমেয়েদের অনুশীলন করানোই শুধু নয়, কোচিং সেন্টারে প্রস্তুতি ম্যাচে একসঙ্গে খেলানো হয় তাদের। ভয়ডরহীন মানসিকতা নিয়ে তা উপভোগও করেন উইনার্সের কিশোরী ফুটবলাররা।

১৯৯৫ সালে শুরুর সময় ছেলেদের জন্য ছিল এই কোচিং সেন্টার। দুই বছর আগে ভাবনা বদলের নেপথ্যের কারণ শোনালেন উইনার্সের অন্যতম কোচ কাঞ্চন সরকার। বলেছেন, ছেলেদের নিয়ে সাফল্য পাওয়ার পর এবার আমাদের লক্ষ্য স্থানীয় মেয়েদের কলকাতা ময়দানে জায়গা করে দেওয়া। রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠে আপাতত অনূর্ধ্ব-১০ ও ১৩-১৫ বছর বয়স বিভাগে নয়জন মেয়ে অনুশীলন করছে।

- Advertisement -

ছেলেদের সঙ্গে মেয়েদের মাঠে নামানোর চ্যালেঞ্জ এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক সামলেছে সঞ্জীব দেবের নেতত্বাধীন উইনার্সের কোচিং টিম। অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে কোচিংয়ে দাযিত্বে থাকা রাজু দেব ও পার্থ কর্মকার এবং ১৩-১৫ বিভাগের অমর দাস বলেছেন, শুরু থেকেই প্রচণ্ড আগ্রহ দেখিয়েছে মেয়েরা। এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেননি অভিভাবকরাও। প্রায় প্রত্যেক মেয়ের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরা মাঠে এসে বসে থাকেন। খুচখাচ চোট হয়তো লেগেছে। কিন্তু মেয়েদের উন্নতি হচ্ছে দেখে তাঁরা আর আপত্তি করেননি।

ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলনের টেকনিকাল সুবিধার কথা বলেছেন কোচিং সেন্টারে দুই বছর ধরে অনুশীলন করা মমতা রায়। বলেছে, শুরুর দিকে একটু একটু ভয় করলেও এখন সব কেটে গিয়েছে। বরং ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করে কড়া ট্যাকলের বিরুদ্ধে মানসিক দুর্বলতা মুছে গিয়েছে। খেলার মাঠে উন্নতির লোভে বাড়ির বাধাও তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল সাকিনা পারভিনের কাছে। তার কথায়, প্রথম দিকে আপত্তি করেছিল। কিন্তু আমার উন্নতি দেখে আর বাধা দেয়নি বাড়ির লোক। উইনার্সে অনুশীলন ম্যাচে ছেলেদের সঙ্গে আমরা খেলি। এভাবে শারীরিক দিক থেকেও আমরা শক্তপোক্ত হয়ে গিয়েছি। মেয়েদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামলে ফারাক টের পাই।

বছরখানেক আগে উইনার্সের কোচিং সেন্টারে নাম লেখান বুলি কুণ্ডু। ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করতে হবে জেনেই সে এখানে এসেছিল। বুলি বলেছে, খুব বেশি মেয়ে ফুটবল খেলে না। তাই অনুশীলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাইলে ছেলেদের সঙ্গে খেলা ছাড়া উপায় নেই। চোট পাওয়ার ভয়ে পিছিয়ে গেলে আখেরে নিজেরই ক্ষতি করা হবে।