উদ্বাস্তুদের মন জয় করাই লক্ষ্য ঘাসফুল শিবিরের

289
ফাইল ছবি।

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি : লক্ষ্য বিধানসভা ভোট। আর তাই রাজবংশী, মতুয়া এবং নমঃশূদ্রদের জন্য একাধিক প্রকল্প ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন। এবার সিটিজেন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বা সিএএ নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করতে চাইছে তৃণমূল। এইভাবেই ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের মন জয় করার লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গে উদ্বাস্তু ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি। এনআরসি এবং সিএএর বিরোধিতায় এর আগেও উত্তরবঙ্গ উত্তপ্ত হয়েছিল। এবার সেই তুরুপের তাসই খেলতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই কারণে এই সংক্রান্ত সব তথ্য হাতে রাখতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। কোন মৌজা এবং কোন ব্লকে কতজন উদ্বাস্তু ভোটার রয়েছেন, তাঁরা কোন সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন হিন্দু এবং কতজন সংখ্যালঘু সেই তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সেই তথ্য মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছাতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই কাজে প্রশাসনকে ব্যবহারের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলীয় নেতৃত্ব ব্লকস্তরে খোঁজ নিয়ে এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছেন। এর সঙ্গে প্রশাসনের কোনও সম্পর্ক নেই।

তৃণমূলের এক নেতা বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব তথ্য মুখ্যমন্ত্রী হাতে নিয়ে সেই মতো ব্লকস্তরে আন্দোলন পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেবেন। কারণ, বাংলাদেশ থেকে আসা প্রচুর মানুষ জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও শিলিগুড়িতে থাকেন। সিএএ নিয়ে তাঁদের অনেকেই আতঙ্কিত। কারণ, অনেকের জন্মের নথি হারিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সিএএ কার্যকর হলে তাঁরা অনেকেই সমস্যায় পড়বেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই আন্দোলনে জোর দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

- Advertisement -

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা থেকে শুরু করে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সকলেই বাংলায় এসে সিএএ জানুয়ারি মাসে কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছেন। উত্তরবঙ্গে তাই এই ইস্যুকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাজে লাগাতে চাইছেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিএএ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও ভীতি রয়েছে। সেইজন্য এবার তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছে তৃণমূল। যে এলাকায় উদ্বাস্তু ভোটারের সংখ্যা বেশি, সেখানে এখন থেকেই তৃণমূল ঝাঁপাবে। তার জন্য ব্লকস্তরে কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখন থেকেই তাঁদের এই নিয়ে সরব হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ১০ দিনের মধ্যে তথ্য হাতে পাওয়ার পর এই নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চালানো হবে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, দক্ষিণবঙ্গেও উদ্বাস্তু ভোটার অধ্যুষিত এলাকায় এই ইস্যুতে জোর প্রচার চালানো হবে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে দলনেত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, মানুষের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে যে সমস্ত ক্ষোভ রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কোনওভাবেই বিজেপিকে জায়গা দেওয়া যাবে না। উত্তরবঙ্গের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে দলনেত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি থেকে আসা বিজেপি নেতারা এখানে লাফাচ্ছেন। আর এখানে আপনারা কী করছেন? বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তা তিনি দলীয় নেতৃত্বকে বারবার জানিয়েছেন। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ বা ফেব্রুয়ারিতে তিনি ফের উত্তরবঙ্গ সফরে আসতে পারেন বলে দলীয় নেতৃত্বকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, ভোটের দিন ঘোষণার আগেই উত্তরবঙ্গের ক্ষত মেরামত করতে দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট নেবেন। প্রয়োজনে তিনি কিছু পরিবর্তনও আনতে পারেন। একইসঙ্গে সিএএ নিয়ে বিজেপি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেও তিনি তাকিয়ে আছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের ধারণা, অসমে সিএএ নিয়ে মানুষের ভোগান্তির কথা বেশি মাত্রায় প্রচার চালালে সংলগ্ন কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে তার সুফল তৃণমূল পেতে পারে। সেই কারণেই অসমের সিএএ সম্পর্কে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের খবরের ক্লিপিংস এবং ভিডিও এলাকায় এলাকায় প্রচার করা হবে। দলনেত্রীও এই নিয়ে ক্রমশ সুর চড়াবেন।