করোনা ভ্যাকসিন এলেও দেশের সকল নাগরিককে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রক

1042
প্রতীকী

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে করোনার সার্বিক পরিস্থিতিতে তেমন কোনও পরিবর্তন না এলেও, সংক্রমণের হার কম থাকতে থাকতেই ভ্যাকসিন বরাদ্দ করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। এই ভ্যাকসিনের হালহদিস জানতে সম্প্রতি তিনটি শহরে গবেষণাগার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আশ্বাস দিয়েছেন খুব শীঘ্রই বরাদ্দ হবে ভ্যাকসিন। সেই সূত্রে ৮ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করে আগামী শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন মোদি। সবার একটাই প্রশ্ন, কবে আসবে ভ্যাকসিন।

মঙ্গলবার করোনা ভ্যাকসিন বিতর্কে নতুন জল্পনা উসকে দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ঘোষণা করল, সরকার পক্ষ দ্রুত ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করলেও, এই কথা কখনও বলেনি যে, গোটা দেশকে টিকাকরণ করা হবে। স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ সংবাদমাধ্যমকে জানান, করোনার প্রতিষেধক উপলব্ধ হওয়া মানেই তা ১৩০ কোটির জন্য নয়। এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক সম্মত ও তথ্য নির্ভর পরিসংখ্যানে ভরসা রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ একমাত্র সংক্রামিত হয়েছেন এমন ব্যাক্তি ব্যাতীত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও উপসর্গহীন মানুষদের এই টিকা দেওয়া হবে না। কাউকে জোর করেও টিকা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয় মন্ত্রকের তরফে।

- Advertisement -

গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল ডঃ বলরাম ভার্গব বলেন, এই ভ্যাকসিনের উদ্দেশ্য একটাই, সংক্রমণের যে গতিধারা তা রোধ করা। তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। ভূষণ এও বলেন, ভ্যাকসিন তৈরি এবং বণ্টন নিয়ে বিশেষ এক্সপার্ট কমিটি এনিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন যাঁরা একবার সংক্রামিত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁদের টিকা দেওয়া আবশ্যক কিনা। এনিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগামী বছরের গোড়ার দিকে এই কোভ্যাকসিন বাজারে আনতে সচেষ্ট সরকার পক্ষ। বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে চূড়ান্ত পর্বের হিউম্যান ট্রায়ালও।

তাই এহেন পরিস্থিতির নিরিখে দেশজুড়ে সকলেই যখন ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষায়, তখনই কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিল, ভ্যাকসিন সকলের জন্য নয়। শুধুমাত্র আবশ্যিক পর্যায়ে সংক্রামিত ব্যক্তি ছাড়া এই ভ্যাকসিন সকলের জন্য বরাদ্দ করা হবে না। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এটা গণতন্ত্র। টিকাকরণের ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক নীতি বজায় রাখা হবে। যদি দেখা যায়, কেউ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্বের অন্তর্গত হওয়া ছাড়াও অসুরক্ষিত সেক্ষেত্রেও জোর করে তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, এদিনের বৈঠকে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে আনা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দেয় মন্ত্রক। তারা জানায়, সবদিক বিচার বিশ্লেষণ ও সুরক্ষার দিকটি প্রাধান্য দিয়ে ভ্যাকসিন বরাদ্দ করবে সরকার। পার্শ্ব প্রতিক্রিযা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নেবে না সরকার, জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।