বর্ধমানের বাউল শিল্পীকে প্রশংসা পত্র পাঠালেন রাজ্যপাল

149

বর্ধমান: কোভিড ১৯ ভাইরাসের থাবায় জেরবার ভারত-সহ গোটাবিশ্ব। মারণ ভইরাসের থাবা থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীও রক্ষা পাননি। সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন জারি হলে কোভিড ১৯ নিয়ে নিজেই গান লিখে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সচেতনতা প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন বাউল স্বপন দত্ত। এই কাজের প্রশংসা করে বর্ধমানের খাজা আনোয়ারবেড় এলাকার বাসিন্দা বাউল স্বপন দত্তকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ রাজ্যপালের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়ে আপ্লুত স্বপন বাউল। তিনিও রাজ্যপালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করেছেন।

এই প্রথম কোভিড ১৯ ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে স্বপন দত্ত গান লিখে প্রচার চালালেন এমনটা নয়। এর আগে কখনও ডেঙ্গু আবার কখনও কুসংস্কার নিয়ে গানলিখে-সুর দিয়ে স্বপন দত্ত বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় ঘুরে সচেতনতা প্রচার চালিয়েছেন। ডেঙ্গু ও কুসংস্কার নিয়ে সচেতনতা জাগাতে তিনি কলকাতা, মেদিনীপুর, বর্ধমান, হাওড়া হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলায় ছুটে গিয়েছেন। একই ভাবে জল অপচয় বন্ধ করা, গাছ না কাটা, সাপে কাটা রোগীকে ওঝার বদলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ভোটদানে ভোটারদের উৎসাহিত করা প্রভৃতি নানা বিষয়ে তিনি গানের মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে গিয়েছেন। করোনা অতিমারির মধ্যেও তিনি গানের মাধ্যমে করোনা নিয়ে সচেতনতা জাগানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখে মাস্ক পরার জন্য সবার কাছে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের হয়েও তিনি সচেতনতা প্রচার চালান।

- Advertisement -

জনসাধারণকে নানা বিষয়ে সচেতন করার কাজে স্বপন দত্ত নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে চললেও তাঁর দিন কাটে দারিদ্রতায় সঙ্গে লড়াই করেই। বাড়িতে বৃদ্ধা মা-সহ নয় জনের সংসার চালাতে তাঁকে হিমসিম খেতে হয়। গান, তবলা ও ছবি আঁকা শিখিয়ে কোনও রকমে তিনি সংসার চলান। মহানুভব বাউল শিল্পী স্বপন দত্তর পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার তাঁর জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

বাউল স্বপন দত্ত দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মন জয় করেছিলেন। প্রণববাবু তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। একটি একতারা তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন প্রণববাবু। ভারতের নির্বাচনও স্বপন বাউলকে মানপত্র দিয়েছিল। এইসব পুরস্কার ও স্বীকৃতি তাঁর জীবনে বড় পাওনা বলে স্বপন দত্ত জানিয়েছেন।