একজন চিকিৎসককে দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা : স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে তাঁর ওপরই নির্ভর করে চলছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সীমান্তবর্তী এই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর এলাকার প্রচুর মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু, পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে মানুষ সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন। বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যা দেখিয়ে রোগীদের অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সেখানে মাত্র একজন স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন। এর পাশাপাশি, মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল থেকে আরেকজন চিকিৎসক এসে সপ্তাহে তিনদিন রোগী দেখছেন। স্থায়ী বিএমওএইচ বদলি হয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওই স্থায়ী চিকিৎসককেই বিএমওএইচ-এর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে, রোগী দেখার পাশাপাশি তাঁকে প্রশাসনিক দিকটিও সামাল দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কখনও কখনও টানা তিন-চারদিন ডিউটি করতে হচ্ছে তাঁকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝেমধ্যেই কর্তৃপক্ষকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় বহির্বিভাগেও চিকিৎসা করাতে আসা রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনরাও নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এতে মাঝেমধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

- Advertisement -

ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক তথা বিএমওএইচ-এর দায়িত্বে থাকা ডাঃ উত্তম রায় বলেন, দায়িত্ব পালনে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। বিভিন্ন বিষয়ে কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ৩০টি শয্যার ব্যবস্থার কথা বলা হলেও সেটা আজ অবধি হয়নি। বিভিন্ন মহলের তরফে এটিকে গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করার দাবি তোলা হলেও সেই দাবিও পূরণ হয়নি। যদিও, স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, শয্যা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই সীমানাপ্রাচীর, অতিরিক্ত ভবন নির্মাণ সহ পরিকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়নের কাজও করা হয়েছে। বাকি সমস্যাগুলিও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

একাংশের অভিযোগ, নানা সমস্যার কারণে বর্তমানে সামান্য রোগ হলেও রোগীদের অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি অন্য উন্নয়নগুলির কাজও দ্রুত শুরু করার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিপিএম-ও। দলের মেখলিগঞ্জ-২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক দীপক গুহ বলেন, চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও সময়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকেন না। বর্তমানে সমস্যা আরও জটিল আকার নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা বিভিন্ন মহলে স্মারকলিপি দিয়েছি। চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করা সহ একাধিক দাবিতে ফের আন্দোলনে নামা হবে।