ভেঙে গিয়েছে পূর্ত সড়কের হাইট ব্যারিয়ার, সংস্কারের দাবি

658

ওদলাবাড়ি: মাত্র দু’মাস আগে ওদলাবাড়ি-গজলডোবা পূর্ত সড়কে লাগানো হাইট ব্যারিয়ার ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। সোমবার সকালে এই হাইট ব্যারিয়ারটিকে দুমড়ে মুচড়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

মজবুত লোহার বিম দিয়ে তৈরি হাইট ব্যারিয়ারটি কীভাবে ভেঙে পড়ল তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পূর্ত ও সড়ক বিভাগের আধিকারিকরা। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পূর্ত ও সড়ক বিভাগের একাংশ অবশ্য এই ঘটনার পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের গভীর চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন।

- Advertisement -

এই মহলের দাবি, কোনও ভাবেই মজবুত এই হাইট ব্যারিয়ার দু’মাসের ব্যবধানে ভেঙে পড়ার কথা নয়। কেউ বা কারা নিজেদের স্বার্থে ইচ্ছে করে জেসিবি বা পোকলেন জাতীয় ভারী কোনও মেশিনের সাহায্যে এটিকে ভেঙে দিয়েছে। তবে সেই স্বার্থান্বেষী মহলের নাম তিনি উচ্চারন করেননি।

গত কয়েকবছর ধরে ওদলাবাড়ি থেকে গজলডোবাগামী এই পূর্ত সড়কের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ডুয়ার্স থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াতের জন্য বেশিরভাগ যানবাহন সেবকের পাহাড়ি পথের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এই সড়কটি ব্যবহার করছেন।

পাশাপাশি ভোরের আলোর মতো পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার ফলে উত্তরোত্তর এই সড়কের গুরুত্ব বৃদ্ধি হচ্ছে। আর এই কারণেই পূর্ত ও সড়ক বিভাগের তরফে গত কয়েকবছরে একাধিকবার এই সড়কটি নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও বেশিদিন টেকেনি।

পূর্ত ও সড়ক বিভাগের আধিকারিকরা ইতিপূর্বে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের সাথে গজলডোবা হাওয়া মহলে একাধিক মিটিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরে এক্ষেত্রে এই সড়কপথে ওভারলোডেড ডাম্পার চলাচলকেই দায়ী করেছিলেন। এরপরই সড়কটি রক্ষা করার জন্য গজলডোবা ৭ নম্বর এলাকায় টুকরো ফরেস্ট পেরিয়ে হাইট ব্যারিয়ার লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ট্রাক মালিকদের প্রাথমিক বাঁধা কাটিয়ে আগষ্ট মাসের শেষে হাইট ব্যারিয়ার লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওভারলোডেড ডাম্পার, চা পাতা বোঝাই লরি সহ ভারী সমস্ত যানবাহন অনেকটা ঘুরে তার ঘেরা জঙ্গলের বুক চিরে যাওয়া ওদলাবাড়ি-ক্রান্তি পূর্ত সড়ক ধরে কাঠামবাড়ির কাছে ক্যানাল রোড ধরে গজলডোবা, শিলিগুড়ি যাতায়াত করতে শুরু করে।

সেই থেকে এই হাইট ব্যারিয়ার নিয়ে ট্রাক মালিকদের একটা ক্ষোভ ছিলই। তবে গতরাতের ঘটনায় কে বা কারা  জড়িত তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি পূর্ত ও সড়ক বিভাগ। অন্যদিকে, মাল থানার ওসি শুভাশীষ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গতরাতে এই সড়কে দূর্ঘটনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্ন উঠছে, কে ভাঙল এই হাইট ব্যারিয়ার? এদিন সকালে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন পূর্ত ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী বাস্তুকার অনিন্দ্য রায়।

তিনিও সংবাদমাধ্যমের সামনে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় লোকজনও কেউ কিছুই বলছেন না। তবে ঘটনাস্থলে ভারী কোনও যানবাহন বা মেশিনের চাকার দাগ তাঁরা লক্ষ্য করেছেন। পুলিশও নিজের মত করে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার পেছনে জড়িতদের খোঁজ শুরু করেছে। সবমিলিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য এলাকায়।

অন্যদিকে হাইট ব্যারিয়ারের লোহার বিমগুলি রাস্তায় পড়ে থাকায় সকাল থেকে এই পথ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গ্যাস কাটার ও জেসিবি এনে রাস্তা পরিস্কার করে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়।