বোমা বিস্ফোরণে ভাঙল বাড়ি, জখম ৩

110

বর্ধমান: মজুত বোমা বিস্ফোরণে বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে পূর্ব বর্ধমানে। ভাতারের বানেশ্বরপুর গ্রামের পর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বোমা বিস্ফোরণের জেরে ভেঙে পড়ল জেলার কেতুগ্রামের সুজাপুর গ্রামের জনৈক সাক্ষীগোপাল ঘোষের বাড়ির একাংশ। বোমা বিস্ফোরণের কারণে জখম হওয়া বাড়ির মালিক সহ ৩ জনই গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। পুলিশ বাড়িটি ঘিরে পলাতকদের সন্ধান চালাচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রামেই রয়েছে সাক্ষীগোপাল ঘোষের একতলা পাকা বাড়ি। সেই বাড়িতে থাকেন সাক্ষীগোপালের স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ ও ভাইসহ মোট ৬ জন সদস্য। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ বাড়িটি খতিয়ে দেখে।

প্রতিবেশীরা জানান, এদিন ভোর রাতে বিকট বিস্ফোরণের কেপে ওঠে এলাকা। তারপরই এলাকার সবাই যে যার ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন সাক্ষীগোপালের পাকা কংক্রিটের বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। এমনকি সাক্ষীগোপালের  বাড়ির পাকা দেওয়াল গুলিতেও ফাটল দেখতে পান গ্রামবাসীরা। বোমা বিস্ফোরণে সাক্ষীগোপাল ছাড়াও তাঁর ছেলে ও ভাই আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তারি এড়াতে ঘটনার পরই আহতদের সবাইকে নিয়ে পালিয়ে যায় পরিবারের বাকি সদস্যরা।

- Advertisement -

বাড়িতে আর বোমা মজুত রাখার আছে কিনা খতিয়ে দেখার জন্যে বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ওই বাড়িতে মজুত থাকা একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতেই বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা পুলিশের কর্তাদের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে পলাতকদের খুঁজে বার করাটাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে।

বিজেপির পূর্ব বর্ধমান কাটোয়া সাংগাঠনিক জেলার সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘সুজাপুর গ্রামে যার বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সক্রিয় কর্মী। ওই বাড়িতেই বোমা মজুত রাখা হয়েছিল। কোনওভাবে তাতে বিস্ফোরণ হয়ে যায়। তারপরই বোমা মজুত রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বোমা মজুতের ঘটনায় জড়িত সকলের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন বিজেপি নেতা কৃষ্ণ ঘোষ। যদিও সাক্ষীগোপালের ছেলে শুভজিৎকে বিজেপি কর্মী বলে পালটা দাবি করেছে তৃণমূল।’

কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনওয়াজ বলেন, ‘তাঁর বিধানসভা এলাকা অনেক বড়। তার মধ্যে কে কাকে ভোট দিয়েছে বা কে কোন দলের সমর্থক অত খবর রাখা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে৷ আইন আইনের পথে চলবে। কেউ দোষী হলে শাস্তি পাবে।’